সারা দিন তপ্ত রোদে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। উত্তপ্ত পাথরে পা ফেলার জো নেই। তবে পাহাড়ের বাতাস ও স্বচ্ছ শীতল পানি গরমের অস্বস্তি এবং ভ্রমণের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে পর্যটকদের। কুরবানির ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটকের পদভারে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর।
পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে সাদাপাথরে পর্যটক সমাগম বাড়তে শুরু করে এবং রোববার বিকাল পর্যন্ত ছিল পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। গেল দুই বছরের তুলনায় এবার ঈদুল আজহায় প্রত্যাশিত পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা। অন্যদিকে স্বচ্ছ শীতল জল ও পাথরের উপর জলের ঢেউ খেলানো পর্যটকদের বিমোহিত করেছে।
রোববার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নেমেছে সাদাপাথরে। পার্কিং এলাকায় কানায় কানায় পূর্ণ পর্যটকবাহী যানবাহনে। ভিড় ছিল নৌকা ঘাটের টিকিট কাউন্টারে। বিভিন্ন কসমেটিক্স দোকানেও ছিল ক্রেতার পর্যাপ্ত সমাগম।
প্রকৃতির মুগ্ধতায় পর্যটকরা
সাদাপাথর জিরোপয়েন্ট এলাকায় তপ্ত রোদে স্বচ্ছ শীতল জলে পর্যটকদের গা ভাসিয়ে দিতে দেখা গেছে। কেউবা মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। কেউ কেউ চড়ছেন ঘোড়ার পিঠে। অনেকেই জলকেলিতে হৈ-হুল্লোড়ে মেতেছেন। সবার মুখে ছিল সাদাপাথরের প্রকৃতির মুগ্ধতার কাহিনী। বগুড়া থেকে আসা মুহিব খান, অপরূপা রায়, লিমা বেগম ও হৃদয় চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, 'সাদাপাথরের সৌন্দর্য বলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এক কথায় অসাধারণ! আমরা বারবার এখানে ছুটে আসব।' গাজীপুর থেকে আমান, শারমিন শিলা, মীম, সুস্মিতা খান ও মাগুরা থেকে আগত অপূর্ব, মামুন যুগান্তরকে বলেন, 'কুরবানির ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। সিলেট খুবই সুন্দর জায়গা, সাদাপাথরের সৌন্দর্যে মন ভরে গেছে। আই লাভ সাদাপাথর!'
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
আইসক্রিম বিক্রেতা মকবুল, কসমেটিক্স ব্যবসায়ী নুর, সোহেল, হোটেল ব্যবসায়ী আহমেদ রুবেল যুগান্তরকে বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে শনিবার ও রোববার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক এসেছে, ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।' কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির প্রচার সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, 'সাদাপাথরে প্রচুর পর্যটক এসেছে। আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।' ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাব্বির মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, 'অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার আশানুরূপ পর্যটক এসেছে। খাবার ও স্থানীয় পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েকদিন পর্যটকদের সমাগম অব্যাহত থাকবে।'
পরিসংখ্যান ও নিরাপত্তা
সাদাপাথর নৌকাঘাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, 'দুই দিন ধরে আশানুরূপ পর্যটক এসেছে। শনিবার ১৫ হাজার ও রোববার ১৭ হাজারের মতো পর্যটকের আগমন ঘটে। বেশি বেশি পর্যটক আসায় আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে।' ভোলাগঞ্জ ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ এসআই বকুল সাহা যুগান্তরকে বলেন, 'ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পার্কিং, নৌকাঘাট ও মূল স্পষ্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।' উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, 'পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মাইকিং, পরিদর্শন, পর্যবেক্ষন করছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতায় প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও।'



