ঈদুল আজহায় দেশের দুই ভাগে দুই রকম আবহাওয়া
ঈদুল আজহায় দেশের দুই ভাগে দুই রকম আবহাওয়া

জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে এসে আকাশের মেজাজও যেন জ্যৈষ্ঠের মতোই হয়ে উঠেছে। কোথাও হঠাৎ কালো মেঘ ও ঝুম বৃষ্টি, আবার কোথাও রোদের আগুনে হাঁসফাঁস অবস্থা। এই বৈপরীত্যের আবহাওয়ার মধ্যেই এগিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, ঈদের দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এবারের ঈদে দেশের দুই প্রান্তে আবহাওয়া হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উত্তরের মানুষ ঈদের দিনে বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে পারেন, অন্যদিকে দক্ষিণের অনেক এলাকার মানুষের সঙ্গী হতে পারে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া।

উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা

দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য ঈদের দিন বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে স্বস্তির খবর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। ফলে কোরবানির প্রস্তুতি কিংবা ঈদের দিনের চলাফেরায় কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও তাপমাত্রা খানিকটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে ভ্যাপসা গরম

অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গরমের তীব্রতা ও ভ্যাপসা আবহাওয়া মানুষের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়াবিদের মতামত

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, ঈদের সময় দেশের উত্তর ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকলেও মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হবে মূলত বিচ্ছিন্ন ও স্বল্পস্থায়ী। তার মতে, বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, তবে তাতে গরম পুরোপুরি বিদায় নেবে না। বেশির ভাগ এলাকায়ই ভ্যাপসা আবহাওয়া থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজধানীর আবহাওয়া

রাজধানীবাসীর জন্যও রয়েছে বৃষ্টির আভাস। ঈদের আগের রাত থেকেই ঢাকার আকাশে মেঘ জমতে পারে। ঈদের দিন সকালেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের চিত্র

এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আপাতত এ পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভবনা নেই। সাম্প্রতিক আবহাওয়ার তথ্যেও মিলছে বৈচিত্র্যময় চিত্র। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টে ৯৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া ফেনী, রাঙামাটি ও ঢাকায়ও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে।

নদীবন্দরের সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের কয়েকটি নদীবন্দরের জন্য সতর্কবার্তাও দিয়েছে। ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঈদের আনন্দের সঙ্গে তাই এবারের প্রস্তুতির তালিকায় যোগ হতে পারে আরেকটি বিষয়: ছাতা, হালকা পোশাক আর আবহাওয়ার খোঁজ রাখা। কারণ, এবারের ঈদে কারও আকাশে নামতে পারে বৃষ্টির সুর, আবার কারও সঙ্গী হতে পারে গরমের দমবন্ধ করা অনুভূতি।