কালো জাদু ও তাবিজ-কবজ থেকে বাঁচতে ইসলামের নির্দেশনা
কালো জাদু ও তাবিজ-কবজ থেকে বাঁচতে ইসলামের নির্দেশনা

শায়খ আহমাদুল্লাহ তার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্যে কালো জাদু, তাবিজ-কবজ ও কুফরি কালাম থেকে বাঁচার ইসলামী উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বর্তমান সমাজে এসব নিকৃষ্ট পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্যক্তিগত শত্রুতা, হিংসা বা অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অনেকে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু খেলাধুলার আসরেও ব্ল্যাক ম্যাজিকের অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে জাদুর বাস্তবতা

ইসলামের দৃষ্টিতে ‘সিহর’ (জাদু) একটি বাস্তব বিষয়। পবিত্র কুরআনে এর উল্লেখ রয়েছে। তাই একজন মুসলিমের জন্য জাদুর অস্তিত্বে বিশ্বাসের ভিত্তি হলো আল্লাহর বাণী ও সহিহ হাদিস; কোনো ঘটনার প্রচার বা আধুনিক বিজ্ঞানের স্বীকৃতি নয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন যে, জাদুর ভয় থেকে মুক্ত থাকার জন্য প্রথম করণীয় হলো আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তার ওপর পূর্ণ ভরসা করা।

সুরক্ষার জন্য সুন্নাহভিত্তিক আমল

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত কিছু সুন্নাহভিত্তিক আমল করার প্রতি ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা উল্লেখ করেন:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া ও যিকির নিয়মিত পাঠ করা।
  • সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা।
  • ঘরে নিয়মিত সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করা বা শ্রবণ করা।
  • প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বীজের রোজা পালন করা।

এসব আমল আল্লাহর রহমতে বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার মাধ্যম হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আক্রান্ত হলে করণীয়: রুকইয়াহ

কেউ যদি মনে করেন তিনি জাদুর প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ (কুরআন ও সহিহ দোয়ার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক) গ্রহণ করতে পারেন। রুকইয়াহ বলতে কুরআনের নির্দিষ্ট আয়াত ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পাঠ করে নিজের শরীরে, পানিতে বা খাদ্যে ফুঁ দেওয়া বোঝায়। ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, আরোগ্য আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, কুরআন তাঁর রহমতের একটি মাধ্যম।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে অনেকেই মনে করেন, রুকইয়াহ করাতে হলে অবশ্যই কোনো রাকির কাছে যেতে হবে। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একজন ব্যক্তি নিজেও কুরআন ও সহিহ দোয়া পড়ে নিজের জন্য রুকইয়াহ করতে পারেন। এটিই অনেক আলেমের মতে সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত রাকির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে অর্থলোভী বা শরিয়তবিরোধী পদ্ধতি অনুসরণকারী ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

বাস্তব অভিজ্ঞতা

বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ দুটি ব্যক্তিগত ঘটনার উল্লেখ করেন। একটিতে দেশের বাইরে বসবাসরত এক লেখকের মেয়ের জটিল সমস্যার কথা বলা হয়, যিনি চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও রুকইয়াহ করার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হয়েছে। আরেকটি ঘটনায় এক প্রকৌশলী দম্পতির বাসায় অস্বাভাবিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তারা নিজেরাই রুকইয়াহর আমল শুরু করার পর আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির উন্নতি অনুভব করেন। এসব ঘটনা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।

ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব

আল্লাহর কালামের মাধ্যমে শিফা লাভ কোনো যান্ত্রিক বা তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া নয়। তাই ধৈর্য, আন্তরিকতা, নিয়মিত আমল এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শর্টকাট বা শরিয়তবিরোধী পদ্ধতির পরিবর্তে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করাই একজন মুসলিমের জন্য নিরাপদ ও কল্যাণকর।

শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যের শেষে বলেন, জাদু, তাবিজ-কবজ বা কুফরি কালামের ভয় থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা, নিয়মিত যিকির-আজকার করা এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা। কোনো সমস্যা দেখা দিলে কুসংস্কার, প্রতারক বা শরিয়তবিরোধী পদ্ধতির আশ্রয় না নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বৈধ চিকিৎসার পাশাপাশি শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ গ্রহণ করা উচিত।