যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১২তম ইমাম আল-শাতিবি আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন হিফজ ও দশ কিরাআত প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাফেজে কুরআন, কিরাআত বিশারদ ও গবেষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আয়োজনকে কুরআনচর্চার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এক হাজারের বেশি প্রতিযোগী
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন। তারা পবিত্র কুরআনের হিফজ ও দশ কিরাআতে নিজেদের দক্ষতা উপস্থাপন করছেন। প্রতিযোগীদের মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুররা ও কিরাআত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিচারক প্যানেল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
এবারের এই মর্যাদাপূর্ণ বিচারক প্যানেলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশের শায়খুল কুররা শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারী। আন্তর্জাতিক এই আসরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিচারক প্যানেলের অন্যান্য সদস্য
আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলে আরও রয়েছেন মিসরের সাবেক প্রধান ক্বারী শায়খ ড. আহমদ ঈসা আল-মাসরাওয়ী, তুরস্কের শায়খ হাফিজ উসমান শাহিন, জর্ডানের ড. আহমদ আল-কুদাহ ও শায়খ হাসান আবু আল-নার, মালয়েশিয়ার শায়খ আবদুল করিম বিন জাকারিয়া, তিউনিসিয়ার শায়খ আবদুল মুনইম আল-মাকসাবি, সোমালিয়ার শায়খ খাদের বাহি, মিসরের শায়খ আহমদ মাবরুক এবং যুক্তরাষ্ট্রের শায়খ আবদুর রুকন আল-সুসি।
শায়খ আহমদের দোয়া
প্রতিযোগিতার সফলতা, আন্তরিকতা ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারী বলেন, 'এই আয়োজন যেন কুরআনের খেদমতকে আরও সমৃদ্ধ করে, হাফেজ ও কিরাআত বিশারদদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ ও ঐক্যের এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।'
বাংলাদেশের জন্য গর্ব
বাংলাদেশের একজন কুরআন বিশারদের এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গর্বের বিষয়। এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কুরআন শিক্ষা, হিফজ ও কিরাআতের ঐতিহ্য এবং সুনামের আরও একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি।



