শরিয়তের দৃষ্টিতে ওজন মেপে পশু কেনা: শায়খ আহমাদুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
ওজন মেপে পশু কেনা: শরিয়তের দৃষ্টিতে কী বলে?

শরিয়তের দৃষ্টিতে ওজন মেপে পশু কেনা: শায়খ আহমাদুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাট ও খামারগুলো ইতোমধ্যেই জমে উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশুর হাট বা খামারগুলোতে ‘লাইভ ওয়েট’ বা ওজন মেপে গরু কেনার এক নতুন সংস্কৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশের বড় শহরগুলোতে এই পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে, এভাবে ওজন মেপে পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? কোরবানির আসল উদ্দেশ্যই বা কী? এসব বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ওজন মেপে দাম নির্ধারণ: শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো বাধা নেই

বর্তমানে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোনো বাধা নেই। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ক্রেতা যাতে ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করা একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে। ইসলাম কাউকে লোকসান দিয়ে পশু কিনতে বাধ্য করে না। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ওয়েট স্কেল ব্যবহার করা জায়েজ।

সতর্কবাণী: কোরবানির আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য রক্ষা করুন

তবে, এখানে একটি সতর্কবাণী হলো পশু কেনাটা বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশে রূপ যেন না নেয়; যেখানে মূল উদ্দেশ্য থাকে শুধুমাত্র লাভ বা লোকসান, সেখানে কোরবানির আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে। অনেকেই কম দামে বেশি মাংস পাওয়া যাবে এমন পশু খোঁজেন, যাতে গরিব মানুষকে বেশি মাংস বিতরণ করা যায়। এখানে নিয়ত একটি বড় বিষয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, এটি একটি ভালো নিয়ত এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। ন্যায্যমূল্যে বড় পশু কেনার চেষ্টা করা জায়েজ, কারণ এতে যেমন নিজের সাশ্রয় হয়, তেমনি গরিবদেরও বেশি দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু যদি নিয়ত হয় শুধু মাংস খাওয়া বা সামাজিক মর্যাদা জাহির করা, তবে কোরবানির মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ণ হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য: সামাজিকতা নয়, আধ্যাত্মিকতা

কোরবানি কি কেবলই সামাজিকতার মাপকাঠি? কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ করা। কিন্তু এটিই কোরবানির একমাত্র বা মূল উদ্দেশ্য নয়। বর্তমানে অনেকে কোরবানিকে কেবল একটি উৎসব বা সামাজিকতায় রূপ দিয়েছেন। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে কোরবানি করা, যা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত। এটি একটি আধ্যাত্মিক ইবাদত, যেখানে আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের গুরুত্ব অপরিসীম।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, পশু কেনার সময় ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য স্মরণ রাখা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য। ওজন মেপে কেনা একটি কার্যকরী পদ্ধতি হতে পারে, তবে তা যেন কোরবানির আধ্যাত্মিক মর্মকে অগ্রাহ্য না করে। এই আলোচনা ঈদুল আযহার প্রস্তুতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।