জুমাবার: দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ দিন
জুমাবার ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিনে মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করে এবং বিভিন্ন ইবাদতে মগ্ন হয়। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে, জুমার দিনে দুটি বিশেষ সময় আছে যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন।
দোয়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ইসলামে দোয়াকে ইবাদতের মূল হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত’। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন, আয়াত ৬০)। দোয়া হলো বান্দার আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তার দরবারে নিজের দীনতা প্রকাশের উত্তম পন্থা।
জুমাবারে দোয়া কবুলের প্রথম সময়
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনে একটি সময় আছে যখন কোনো মুসলিম নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা চাইবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করবেন। এই সময়টি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। (বোখারি, হাদিস ৯৩৫; মুসলিম, হাদিস ৮৫২)।
আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৯)। অর্থাৎ, খুতবা শুরু হওয়ার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি।
জুমাবারে দোয়া কবুলের দ্বিতীয় সময়
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিন বারো ভাগ। এর মধ্যে একটি সময় আছে, যাতে কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহ তাআলার কাছে যা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাআলা নিশ্চয় তা দান করবেন। সে সময়টি তোমরা অনুসন্ধান কর আসরের পর দিনের শেষ অংশটিতে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস ১০৩২; আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৮)।
আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত আছে যে, জুমাবারে এমন একটি সময় আছে, যেটাতে বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। (মুসান্নাফ, হাদিস ৫৫৮৮)।
দোয়া কবুলের আমল ও সতর্কতা
জুমার দিনে দোয়া কবুলের জন্য মুসলিমদের কিছু আমল পালন করা উচিত:
- জুমার নামাজের পূর্বে গোসল করা ও পবিত্রতা অর্জন করা।
- খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা এবং নামাজে নিষ্ঠার সাথে অংশগ্রহণ করা।
- আসরের পরের সময়ে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে বান্দা আল্লাহর কাছে চায়, আল্লাহ তার ওপর খুশি হোন। আর যে চায় না, তার ওপর অসন্তুষ্ট হোন। (তিরমিজি, হাদিস ৩৩৭৩)। তাই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।
জুমাবার শুধু একটি দিন নয়, বরং এটি মুসলিমদের জন্য রহমত ও বরকতের দিন। এই দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলো জানা এবং সেগুলো কাজে লাগানো ঈমানদার বান্দার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা সকলের দোয়া কবুল করুন এবং আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।



