দেবর-ভাবি ও শ্যালিকা-দুলাভাইয়ের মধ্যে পর্দার কঠোর বিধান: শায়খ আহমাদউল্লাহর সতর্কবার্তা
বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদউল্লাহ দেবর-ভাবি ও শ্যালিকা-দুলাভাইয়ের মধ্যে পর্দার বিধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্পর্কগুলিতে পর্দার বিধান দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন হতে হবে, কারণ নবী করিম (স) বলেছেন, পুরুষের জন্য শ্যালিকা এবং ভাবির জন্য দেবর হলো মৃত্যুর সমান।
ফেতনা ও ব্যবিচারের উৎস
শায়খ আহমাদউল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, দেবর-ভাবি ও শ্যালিকা-দুলাভাইয়ের মধ্যকার সম্পর্ক থেকে ব্যবিচার এবং ফেতনার সৃষ্টি হয়, যা অনেক মানুষ চিন্তাও করে না। তিনি বলেন, "এখান থেকেই সমাজে অনৈতিকতার বিস্তার ঘটে, যা শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।"
সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা
তিনি বাংলাদেশের সমাজের বর্তমান অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, অনেক মহিলা বাইরে বের হলে পর্দা করেন, কিন্তু বাসায় দেবরের সামনে পর্দা করেন না এবং দুষ্টমি করেন। অন্যদিকে, দুলাভাইরা শ্যালিকার সঙ্গে ইয়ার্কি-ফাইজলামি করেন। সমাজের মানুষ এগুলোকে স্বাভাবিকভাবে নেয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
মুরব্বিদের ভূমিকা ও দায়িত্ব
শায়খ আহমাদউল্লাহ সতর্ক করেন যে, অনেক মুরব্বি এ ধরনের আচরণ দেখেও না দেখার ভান করেন। তিনি বলেন, "এমন করলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী দাইয়ুস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা জান্নাতে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।" তাই সবার সাবধান হওয়া উচিত।
পর্দার কঠোরতা ও প্রয়োজনীয়তা
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেবরের সামনে পর্দা বাইরের মানুষের চেয়েও বেশি কঠোর হতে হবে, কারণ এখানে ফেতনা হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। একইভাবে, দুলাভাইদের শ্যালিকার সামনে চোখের হেফাজত বাইরের মহিলাদের চেয়েও বেশি করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইয়ার্কি-ফাইজলামির নামে আজকাল অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আল্লাহর কাছে দোয়া
শায়খ আহমাদউল্লাহ তার বক্তব্য শেষ করেন আল্লাহর কাছে সঠিক বুঝ ও পথনির্দেশনার জন্য দোয়া করে। তিনি বলেন, "আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন এবং এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইসলামি নির্দেশনা মেনে চলার তৌফিক দান করুন।"



