বিপদে পড়লে সুদে ঋণ নেওয়া যাবে কী? ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদউল্লাহর স্পষ্ট ব্যাখ্যা
ইসলামি শরিয়তে সুদ দেওয়া এবং নেওয়া উভয়ই কঠোরভাবে হারাম হিসেবে বিবেচিত। তবে অনেকেই প্রশ্ন করেন, বিপদে পড়লে বা জরুরি প্রয়োজনে সুদে ঋণ নেওয়া যাবে কিনা। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদউল্লাহ।
সুদের ভয়াবহতা ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
শায়খ আহমাদউল্লাহ বলেন, সুদকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন এবং এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ হারাম কাজগুলোর মধ্যে একটি। তিনি উল্লেখ করেন, এমনকি হালাল পশু জবাই করার পরও যদি সুদের টাকা দিয়ে তার গোশত কেনা হয়, তবে সেই গোশত খাওয়াও হারাম হয়ে যায়।
কোরআন ও হাদিসে সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমান বিশ্বে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। শায়খ আহমাদউল্লাহ এটিকে শয়তানি চাল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, শয়তান ও তার দোসররা এই ব্যবস্থা চালু রেখেছে। তাই মুসলমানদের সুদ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হবে।
বিপদে পড়লে কী করণীয়?
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, যদি সুদে ঋণ না নিলে বিদেশ যাওয়া, ব্যবসা বাড়ানো বা বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে কী করা উচিত? শায়খ আহমাদউল্লাহ এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন:
- বিদেশ যাওয়ার জন্য সুদে ঋণ নেওয়া জরুরি হলে, বিদেশ না যাওয়াই উত্তম।
- ব্যবসা বাড়াতে সুদে ঋণ প্রয়োজন হলে, ব্যবসা না বাড়ানোই শ্রেয়।
- সুদের টাকায় বাড়ি করা হলে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি পরামর্শ দেন, আয় বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করা উচিত এবং সুদভিত্তিক সমাধান এড়িয়ে চলতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল বারবার সুদ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই মুসলমানদের এই হারাম কাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
বিশ্বব্যাপী সুদের প্রভাব ও প্রার্থনা
শায়খ আহমাদউল্লাহ বলেন, গোটা পৃথিবী আজ সুদের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি মুসলমানদের এই হারাম থেকে বাঁচার তাওফিক দান করেন। এই আলোচনা ইসলামি জীবনে সুদের স্থান ও এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।



