মানুষের মনোরাজ্যে আজও চলমান কুরুক্ষেত্র: প্রকৃতি নাকি মানুষ নিজেই দায়ী?
মানুষের মনোরাজ্যে আজও চলমান কুরুক্ষেত্র: প্রকৃতি নাকি মানুষ দায়ী?

মানুষের মনোরাজ্যে আজও চলমান কুরুক্ষেত্র: প্রকৃতি নাকি মানুষ নিজেই দায়ী?

প্রকৃতির অপ্রকৃতিস্থ হবার জন্য কি প্রকৃতিই দায়ী? এই প্রশ্ন আজও সমাজের মর্মস্থলে গভীরভাবে প্রোথিত। পরিবার নয়, সমাজ নয়, রাষ্ট্র নয়—মানুষ নিজেই যেমনটি তার জন্য তৈরি করে, তেমনিই সে ভোগ করে। কুরুক্ষেত্রের সেই ভয়াবহ প্রাণহানি, লাশের পর লাশ, কত বৈধব্য নারীর হাতের হাহাকার ও দীর্ঘশ্বাস, আর কত পিতৃহীন শিশুর আর্তনাদ আজও মানব ইতিহাসে মর্মান্তিক স্মৃতি হিসেবে জেগে আছে।

গান্ধারীর অভিশাপ ও ভগবানের প্রতিফলন

স্বয়ং ভগবানের প্রতিছুড়ে মারা চোখবাঁধা গান্ধারীর অভিশাপ কি আজও আমাদের সমাজকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে? তবুও, কৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করে দেখা যায়—কথিত ধর্মরাজ্য কি আজও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? নাকি মানুষের, গোলাপের মনোরাজ্যে আজও চলমান কুরুক্ষেত্রের আওয়াজ? এই প্রশ্নগুলি আমাদের আত্মবিশ্লেষণের দিকে নিয়ে যায়।

আজও সক্রিয় পুরাণের প্রতিধ্বনি

আজও কি কৃষ্ণের মুখে পাঞ্চজন্য, অর্জুনের মুখে দেবদত্ত এবং ভীষ্মের গঙ্গানাভ শঙ্খের ধ্বনি শোনা যায়? নাকি আজও অর্জুন ও কর্ণ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে—মানবিক হাহাকার ও সংঘাতের মাঝে? শকুনির কূটনীতি কি আজও সক্রিয়, আমাদের সমাজব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করছে? এই পুরাণের ঘটনাগুলি শুধু অতীতের গল্প নয়, বরং বর্তমান মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানুষের নিজস্ব সৃষ্টিই আজ তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতির দোষারোপ না করে, আমরা নিজেদের কর্মফলকেই বুঝতে হবে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি মানব মনের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতীক। আজও আমরা লড়াই করি—আত্মার সঙ্গে আত্মার, ন্যায়ের সঙ্গে অন্যায়ের।

এই যুদ্ধের শেষ কোথায়? হয়তো তখনই, যখন মানুষ নিজেকে চিনতে পারবে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে। কিন্তু আজকের দিনে, মানবিক হাহাকার ও শকুনির সক্রিয়তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কুরুক্ষেত্রের আওয়াজ এখনও থামেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ