মৃতের নামে খতম দেওয়া নাজায়েজ: শায়খ আহমাদুল্লাহর স্পষ্ট বক্তব্য
মৃতের নামে খতম নাজায়েজ: শায়খ আহমাদুল্লাহ

মৃতের নামে খতম দেওয়া নাজায়েজ: শায়খ আহমাদুল্লাহর স্পষ্ট বক্তব্য

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম বা হুজুর ভাড়া করে দোয়া পড়ানোকে নাজায়েজ ও গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সম্প্রতি তার এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে এই স্পষ্ট বক্তব্য দেন।

প্রশ্নের প্রেক্ষাপট

মানুষ মারা গেলে তার নামে খতম দেওয়া বা দোয়া পড়ানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সমাজে প্রশ্ন রয়েছে। এটি জায়েজ কি না বা গুনাহর কারণ হতে পারে কিনা—এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চেয়েছিলেন প্রশ্নকর্তা। শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে সরাসরি এই প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়।

শায়খ আহমাদুল্লাহর জবাব

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে আন্তরিকভাবে দোয়া করা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো মানুষ মারা গেলে তার জন্য হুজুর ভাড়া করে দোয়া পড়ানো বা কুরআন খতম পড়ানো—এগুলো সারা বিশ্বের ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য অনুযায়ী নাজায়েজ এবং গুনাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এগুলো কোনো অবস্থাতেই জায়েজ নয়

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের করণীয়

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের সদস্যদের উচিত নিজেরাই মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়া করা এবং সদকা করা। তিনি এই পদ্ধতিকে ইসলামিকভাবে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেন। তার মতে, ব্যক্তিগত দোয়া ও সদকাই মৃতের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাতের জন্য সর্বোত্তম উপায়।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ

এই বক্তব্যের মাধ্যমে শায়খ আহমাদুল্লাহ মুসলিম সমাজে প্রচলিত একটি প্রথার উপর আলোকপাত করেছেন। তার মতে, অনেকেই অজ্ঞতাবশত বা সামাজিক প্রথা হিসেবে মৃতের নামে খতম দেন, যা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল। তিনি ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এই বিষয়ে স্পষ্টতা এনেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মৃতের জন্য দোয়া করা ফরজ নয়, কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
  • হুজুর ভাড়া করে দোয়া পড়ানো বা খতম দেওয়া বাণিজ্যিকীকরণের শামিল হতে পারে।
  • পরিবারের সদস্যদের সরাসরি দোয়া ও সদকা করাই উত্তম পদ্ধতি।

শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যারা ঐতিহ্যগতভাবে এই প্রথা পালন করে আসছেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আন্তরিকতাই মৃতের জন্য সর্বোত্তম উপহার।