জুমার দিনের তিন শ্রেষ্ঠ আমল পালনে শায়খ আহমাদুল্লাহর বিশেষ আহ্বান
জুমার দিনের তিন শ্রেষ্ঠ আমল পালনে আহ্বান

জুমার দিনের তিনটি মর্যাদাপূর্ণ আমল পালনে শায়খ আহমাদুল্লাহর জোরালো আহ্বান

বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ মুমিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে জুমার দিনকে চিহ্নিত করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল নিয়মিত পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই আমলগুলো আঁকড়ে ধরার সংকল্প করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক।

প্রথম আমল: জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ

শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রথম আমল হিসেবে জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষভাবে জুমার রাত ও জুমার দিনে তার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণত কোনো আমল 'পরিমাণে বাড়ানোর' কথা নবীজি খুব কমই বলেছেন, কিন্তু দরুদের ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্টভাবে পরিমাণ বাড়াতে বলেছেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, জুমার রাত বলতে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং জুমার দিন বলতে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাকে বোঝায়। এই সময়ে বেশি বেশি দরুদ পড়া উচিত। তিনি বলেন, পৃথিবীর যেখান থেকেই দরুদ পড়া হোক না কেন, আল্লাহ তাআলার নিযুক্ত ফেরেশতারা তা নবীজির কাছে পৌঁছে দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সবচেয়ে উত্তম দরুদ হিসেবে তিনি দরুদে ইব্রাহিমের কথা উল্লেখ করেন, যা নামাজে পড়া হয়। দীর্ঘ দরুদ পড়তে না পারলে সংক্ষিপ্তভাবে 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' বা 'আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ' পড়লেও দরুদ আদায় হয়ে যায়। দরুদের ফজিলত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এমন এক আমল যার জন্য অজু থাকা শর্ত নয় এবং একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ বান্দার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় আমল: জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায়

দ্বিতীয় আমল হিসেবে শায়খ আহমাদুল্লাহ জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের ওপর জোর দেন। হাদিসে এসেছে, যত নামাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা। ফজরের নামাজ প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ হলেও জুমার ফজর বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

তিনি বলেন, ফজরের নামাজে উপস্থিত হওয়া ঈমানদারের আলামত। যারা অন্ধকার ভেদ করে ফজরে মসজিদে যায়, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের জন্য বিশেষ নূরের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাই তিনি আহ্বান জানান, ফজরের নামাজ কোনো অবস্থাতেই যেন না ছাড়া হয়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে দেরি করে জেগে থাকা থেকে বিরত থাকতে বলেন, যাতে শুক্রবার ফজরে উপস্থিত হওয়া যায়।

তৃতীয় আমল: জুমার নামাজে আগে আগে উপস্থিতি

তৃতীয় আমল হিসেবে তিনি জুমার নামাজে আগে আগে উপস্থিত হওয়ার কথা বলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, আগে আগে উপস্থিত হয়, ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কথা বলে না, সে মসজিদে যাওয়ার পথে যত কদম ফেলবে, প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর তাহাজ্জুদের সওয়াব পাবে।

শেষে তিনি মুসল্লিদের আবারও অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যতদিন নিঃশ্বাস আছে, এই তিনটি আমল—বেশি বেশি দরুদ পড়া, জুমার ফজর জামাতে আদায় করা এবং জুমায় আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া—কখনোই যেন না ছাড়া হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহর এই আহ্বান মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুস্মারক হিসেবে কাজ করছে।