সারা মুলালির অভিষেক: যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি হিসেবে দায়িত্ব শুরু
সারা মুলালি যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী আর্চবিশপ হিসেবে অভিষিক্ত

সারা মুলালির ঐতিহাসিক অভিষেক: যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি

সারা মুলালি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের ‘আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন, যা চার্চ অব ইংল্যান্ডের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত। ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ, কেন্টের ক্যান্টারবুরি ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘সেন্ট অগাস্টিন’ চেয়ারে আসীন হন, যার মাধ্যমে তাঁর জনসেবামূলক কার্যক্রমের সূচনা হলো।

অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট অতিথি ও রাজকীয় উপস্থিতি

এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরসূরি প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সারা মুলালি, যিনি পূর্বে একজন নার্স হিসেবে কাজ করেছিলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে আট কোটি সদস্যের ‘অ্যাঙ্গলিকান কমিউনিয়ন’-এর আধ্যাত্মিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। চার্চ অব ইংল্যান্ড ১৯৯৪ সালে প্রথম নারী যাজক এবং ২০১৫ সালে প্রথম নারী বিশপ নিয়োগ দেওয়ার পর এবার প্রথম নারী আর্চবিশপ হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটলো।

অভিষেক বক্তৃতা ও শান্তির আহ্বান

অভিষেক অনুষ্ঠানে সারা মুলালি ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আজ আমার সেবাকাজ শুরু করছি।’ মাথায় সোনালি টুপি পরে তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি গির্জার ভেতরে অতীতে ঘটে যাওয়া শিশু নির্যাতনের কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেন, যা তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ওয়েলবির ২০২৪ সালে পদত্যাগের কারণ ছিল। নতুন আর্চবিশপ সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চলার অঙ্গীকার করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতীকী পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ

অনুষ্ঠানের শুরুতে সারা মুলালি গির্জার দরজায় কড়া নাড়েন, যা একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি। তিনি যে পোশাকটি পরেছিলেন, তাতে একটি বিশেষ ক্ল্যাপ ছিল, যা তাঁর নার্স থাকাকালীন বেল্টের আদলে তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়াও, তিনি একটি ঐতিহাসিক আংটি পরেন, যা ১৯৬৬ সালে পোপ ষষ্ঠ পল আর্চবিশপ মাইকেল রামসেকে উপহার দিয়েছিলেন এবং এটি ক্যাথলিক ও অ্যাঙ্গলিকানদের মধ্যে সুসম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

চ্যালেঞ্জ ও ঐক্যের বার্তা

সারা মুলালি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন যখন সমকামীদের বিয়ে এবং নারী নেতৃত্ব নিয়ে গির্জার রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল ধারার মধ্যে বিভেদ চলছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক রক্ষণশীল চার্চ তাঁর নিয়োগের সমালোচনা করেছে। তবে তিনি বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা সবাই একই শিকড়ের একটি পরিবার।’ এই বক্তব্য তাঁর নেতৃত্বে সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে।

এই অভিষেক শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় পদক্ষেপ নয়, বরং এটি নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সারা মুলালির নেতৃত্বে চার্চ অব ইংল্যান্ড কীভাবে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।