বিশ্বনাথ উপজেলার মাজার ও ওরসে নতুন নিয়ম: শুধু জিকির-আসকার ও ইসলামি গান
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সব মাজার এবং ওরসে এখন থেকে শুধুমাত্র জিকির-আসকার, ইসলামি গান ও ওয়াজ মাহফিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওরস চলাকালে কোনো মাইক ব্যবহার করা যাবে না, তবে স্পিকার ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। ওরস উপলক্ষে আলাদাভাবে কোনো মঞ্চও তৈরি করা যাবে না। আজ বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার উপস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সালিস বৈঠকে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গৃহীত
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সালিস বৈঠকে মোট পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
- মাজারে ওরস হলে শুধু জিকির-আসকার, ইসলামিক গান ও ওয়াজ মাহফিল করা যাবে।
- কোনো মাইক ব্যবহার করা যাবে না, তবে স্পিকার ব্যবহারের অনুমতি থাকবে।
- ওরস উপলক্ষে আলাদাভাবে কোনো স্টেজ বা মঞ্চ তৈরি করা যাবে না।
- নাচ, গান, মদ ও জুয়া মেলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
- মসজিদের গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ প্রমাণ সাপেক্ষে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এই সিদ্ধান্তগুলো উপজেলার সব মাজার ও ওরসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রেক্ষাপট
এর আগে গত রোববার রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুরে ইব্রাহিম মাস্তান ওরফে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
মাজার কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও তিন দিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।
সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও সমাধান
যোগাযোগ করলে ইউএনও উম্মে কুলসুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাডাম (সংসদ সদস্য) দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে কিছু শর্ত দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার মতে, মাজারের কেউ নন, বাইরের কিছু মানুষ দূরে প্যান্ডেল তৈরি করে রাতের বেলা উচ্চস্বরে হিন্দিগান বাজাচ্ছিলেন। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলেও তারা নিষেধ শোনেননি, যার ফলে ঘটনাটি ঘটে। পরে মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনাও সংঘটিত হয়।
তাহসিনা রুশদী আরও দাবি করেন, বিশ্বনাথে কোনো ধরনের গানবাজনা বন্ধ করা হয়নি। লালনগীতি, আধ্যাত্মিক সংগীত ও ইসলামি গান করতে কোনো বাধা নেই। কেবল মদ ও গাঁজা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই দুই পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বনাথ উপজেলার মাজার ও ওরসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।



