শরীয়তপুরের ৫০ গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন
শরীয়তপুরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার ঈদ

শরীয়তপুরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন

শরীয়তপুর জেলার প্রায় ৫০টি গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে এই অনন্য প্রথা অনুসরণ করে আসছেন, যেখানে তারা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদীনশীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঐতিহাসিক প্রথার সূচনা ও বিস্তার

জানা গেছে, সুফি সাধক জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরী এই দরবার প্রতিষ্ঠা করেন। তার অনুসারীরা ১৯২৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন শুরু করেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধ, চন্ডিপুর এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দারাগড়সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি শুক্রবার ঈদ উদযাপনে অংশ নেবেন।

ঈদ জামাতের আয়োজন ও সময়সূচি

প্রতিবারের মতো এবারও সুরেশ্বর দরবার শরীফে দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় দরবারের নির্ধারিত মাঠে এসব জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা মো. জুলহাস উদ্দিন। দরবার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ঈদ জামাত ও অন্যান্য আয়োজন সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুসারীদের অনুভূতি ও ঐতিহ্য

সুরেশ্বর দরবার শরীফের ভক্ত মনসুর মৃধা বলেন, "আমার বাবাও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করতেন। আমরা বংশপরম্পরায় এভাবেই ধর্ম পালন করে আসছি। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল ঈদের নামাজ আদায় করে পায়েস খাবো।" অনুসারীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই ঐতিহ্যবাহী প্রথার গভীর আবেগকে প্রতিফলিত করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পীরের বক্তব্য ও শুভেচ্ছা

সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদীনশীন পীর শাহ মুজাদ্দেদী সৈয়দ বেলাল নূরী বলেন, "পৃথিবীতে চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি।" সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সুরেশ্বর দরবার শরীফে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দরবার শরীফের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

এই অনন্য ধর্মীয় প্রথা শরীয়তপুরের স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা আধ্যাত্মিক ঐক্য ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।