শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর
দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা বাংলাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় আগামী শনিবার থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
এতে করে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার রমজানের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে। চাঁদ দেখা না যাওয়ার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঈদের আনুষ্ঠানিক তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ
ঈদের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় যেমন বেড়েছে, তেমনি শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ সারা দেশের প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সময় অনুযায়ী ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে সকল নাগরিক শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
এই ঈদ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করবে। দেশের সকল প্রান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা একত্রিত হয়ে প্রার্থনা ও উৎসবে মেতে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



