বাথরুমে ওজু করা নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর স্পষ্ট বক্তব্য
টয়লেট বা বাথরুমে পবিত্রতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই স্থানে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত, জিকির উচ্চারণ, দীর্ঘ সময় অবস্থান, জোরে কথা বলা, গান গাওয়া, কাপড় ধৌত করা, ভেজা হাতে দরজা খোলা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করা উচিত নয় বলে ইসলামী নির্দেশনা রয়েছে। তবে বাথরুমের ভেতরে ওজু করা যাবে কিনা, এই প্রশ্নটি অনেকের মনে ঘুরপাক খায়।
ওজু করার ক্ষেত্রে শায়খ আহমাদুল্লাহর পরামর্শ
জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, টয়লেট বা বাথরুমে ওজু করা যাবে, কিন্তু সেখানে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা মাকরুহ। তাই যদি আলাদা ওজুর ব্যবস্থা থাকে, তাহলে বাইরেই ওজু সম্পন্ন করা উচিত।
তবে ঢাকা শহরের অনেক বাসায় আলাদা ওজুর স্থান না থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, বাইরে থাকা বেসিনে ওজু শুরু করতে হবে এবং শুধুমাত্র পা ধৌত করার জন্য বাথরুম ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি কোনো বাসায় বাইরে বেসিনই না থাকে, সেক্ষেত্রে বাথরুমের ভেতরেই ওজু করা যাবে, তবে তখন মনে মনে বিসমিল্লাহ পড়ে নিতে হবে। বাথরুম থেকে বের হওয়ার দোয়া অবশ্যই বের হয়ে পড়তে হবে।
টয়লেটে নিষিদ্ধ ও অপছন্দনীয় কাজসমূহ
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, টয়লেট বা বাথরুমে পবিত্রতার বিধান মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আল্লাহর নাম বা পবিত্র বস্তু নিয়ে প্রবেশ: আঙটিতে আল্লাহ বা কোরআনের আয়াত লেখা থাকলে, কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় বই বা কাগজ টয়লেটে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
- অপ্রয়োজনীয় শব্দ: টয়লেটের ভেতরে কথা বলা, গান শোনা বা মোবাইল ব্যবহার করে উচ্চস্বরে কিছু শোনা অনুচিত।
- কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করা: টয়লেটে বসার সময় কিবলার দিকে (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম দিকে) মুখ বা পিঠ দেওয়া যাবে না।
- ডান হাতের অপব্যবহার: ময়লা পরিষ্কার বা ইস্তিনজার জন্য ডান হাত ব্যবহার করা নিষেধ, বাম হাত ব্যবহার করতে হবে।
- খাওয়া-দাওয়া: টয়লেটের ভেতরে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- দীর্ঘক্ষণ অবস্থান: অকারণে বাথরুমে বেশিক্ষণ বসে থাকা অনুচিত, কারণ এটি শয়তানের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
পবিত্রতা রক্ষার গুরুত্ব
বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হতে হবে এবং নির্দিষ্ট দোয়া পড়তে হবে। টয়লেটে পবিত্রতা ও আদব বজায় রাখা ঈমানের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইসলামী জীবনযাপনে এই নিয়মগুলো মেনে চললে দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগি সহজ ও পবিত্র হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহর এই পরামর্শগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।



