যশোরে আশরাফুল মাদারিসে ইতিকাফে ১,৭০০ মুসল্লি, বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ
যশোরে ইতিকাফে ১,৭০০ মুসল্লি, বিদেশি অংশগ্রহণ

যশোরে আশরাফুল মাদারিসে ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন ১,৭০০ মুসল্লি

ইসলামের আত্মশুদ্ধিমূলক ইবাদত ইতিকাফের মাধ্যমে দুনিয়ার কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে আত্মনিবেদনের এক অনন্য দৃশ্য দেখা যাচ্ছে যশোরে। সদর উপজেলার আশরাফুল মাদারিস মসজিদে এবার ইতিকাফে বসেছেন প্রায় এক হাজার সাতশত মুসল্লি। এই ইতিকাফের মূল আকর্ষণ দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হযরত ইব্রাহিম ইসমাইল পাণ্ডু, যিনি শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী নামে পরিচিত। তিনি শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন।

বিদেশি মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি

শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকীর নেতৃত্বে এই ইতিকাফে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা সমবেত হয়েছেন। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, পানামা এবং মিয়ানমারের বাসিন্দারা রয়েছেন। মোট মুসল্লির সংখ্যা প্রায় এক হাজার সাতশত, যার মধ্যে বিদেশি নাগরিক অন্তত আশি জন। সাধারণত সুন্নত ইতিকাফ ২০ রমজান থেকে শুরু হলেও এই মাদ্রাসায় এবার ১ রমজান থেকেই নফল ইতিকাফের আয়োজন করা হয়েছে, যা বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

খাদ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা

ইতিকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীসহ প্রায় ছয় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লির জন্য ইফতার, সেহরি ও অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থা করছেন। বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ সদস্যরা রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন।

মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক দিক

যশোরের রাজারহাট-মণিরামপুর সড়কের পাশে সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা গ্রামে অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস। প্রতিষ্ঠানটিতে চারতলা মসজিদ ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক ভবন রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করছেন। মাদ্রাসার হোস্টেল সুপার মাওলানা হাসান ইমাম জানান, ২০২৩ সালের পর এবার ফের শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী এই মাদ্রাসায় ইতিকাফে বসেছেন, যা মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার তিনশত লোকের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ঈদের পরের দিন পর্যন্ত এই মেহমানদারি চলবে। শিক্ষক মাওলানা আবু হুরাইরা বলেন, দেশ-বিদেশের মেহমানদের সান্নিধ্য পাওয়া এবং তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ হচ্ছে, যা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করছে।

এই ইতিকাফ আয়োজনটি স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আন্তর্জাতিক সংযোগের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সেবার মনোভাব একত্রিত হয়েছে।