আল-কুদস দিবস: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও মসজিদুল আকসা রক্ষার ঐতিহাসিক আহ্বান
রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আল-কুদস দিবস পালন করেন। এই দিনটি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসা রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক দিবস নয়, বরং এটি ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বিশেষ দিন।
মসজিদুল আকসার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব
আল-কুদস তথা মসজিদুল আকসা ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত একটি পবিত্র স্থান, যা বায়তুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত। কুদস শব্দের অর্থ পবিত্র। এই মসজিদটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, কারণ প্রিয় নবীজি (সা.) মিরাজের রাতে প্রথমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় সফর করেন, যা ইসরা নামে অভিহিত।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর, তাঁর বংশধর হজরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে হজরত সুলাইমান (আ.) এটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর উদ্বোধন করেন। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে এই মসজিদটি মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও সংগ্রাম
হজরত ওমর (রা.)–এর খিলাফতকালে ৬৪৮ সালে বায়তুল মুকাদ্দাস ও জেরুজালেম মুসলমানদের অধিকারে আসে। তবে ১০৯৬ সালে খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা এই অঞ্চল দখল করেন। ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি (রহ.) জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। এরপর থেকে ইহুদি ও খ্রিষ্টান চক্র ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র শুরু করে।
১৯১৭ সালে ইংরেজরা ফিলিস্তিনে অনুপ্রবেশ করে এবং ১৯২০ সালে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ইহুদিরা দ্রুত বসতি স্থাপন করতে থাকে, যা মুসলমানদের সঙ্গে সংঘাতের সৃষ্টি করে। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল মসজিদুল আকসা জবরদখল করে, যা মুসলিম জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামকে তীব্র করে তোলে।
আল-কুদস দিবসের সূচনা ও তাৎপর্য
ফিলিস্তিনের এই কঠিন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালনের প্রথা চালু হয়। এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ, আলোচনা ও সংহতি কর্মসূচির মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো:
- মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষা করা
- ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা
- মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া
রমজানের শেষ শুক্রবার পালিত আল-কুদস দিবস তাই বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি প্রতীকী দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় জেরুজালেমের পবিত্র ভূমি ও তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা।
