শবে কদরের মর্যাদা পেতে হাদিসে বর্ণিত দুই শর্ত কী?
শবে কদরের মর্যাদা পেতে দুই শর্ত

শবে কদরের মহিমা ও হাদিসে বর্ণিত দুই শর্ত

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ রাত হিসেবে পরিচিত। এই রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে একটি সম্পূর্ণ সুরা নাজিল করা হয়েছে, যা সুরা আল-কদর নামে খ্যাত। এই সুরায় আল্লাহ তাআলা শবে কদরের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

কুরআনে শবে কদরের বর্ণনা

সুরা আল-কদরে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জান? শবে কদর হলো এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। শান্তি আর শান্তি, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ এই আয়াতগুলোতে শবে কদরের অতুলনীয় মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

এই পবিত্র রাতে অসংখ্য ফেরেশতা ও হজরত জিবরিল (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করেন মানবজাতির কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। রাতজুড়ে বিরাজ করে এক অপার শান্তি ও নিরাপত্তার আবহ, যা ফজরের সূচনা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে।

হাদিসে বর্ণিত গুনাহ মাফের শর্ত

শবে কদরের ইবাদতের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানদার অবস্থায় একনিষ্ঠতার সঙ্গে লাইলাতুল কদরে ইবাদত করে, আল্লাহ তাআলা তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি ১৯০১)। এই হাদিসে গুনাহ মাফের জন্য দুটি সুনির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম শর্ত: সঠিক ইমান ও আকিদা

প্রথম শর্ত হলো ইবাদতকারীকে ‘মুমিন’ বা সত্যিকার ঈমানদার হতে হবে। এর অর্থ তার আকিদা বা ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে শুদ্ধ ও নির্ভুল হতে হবে। শিরক, কুফর বা যেকোনো অপবিশ্বাস থেকে তার অন্তর পবিত্র রাখতে হবে। যদি কারো বিশ্বাসে কোনো প্রকার ত্রুটি বা বিকৃতি থাকে, তবে সে শবে কদরের অফুরন্ত বরকত ও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হবে।

দ্বিতীয় শর্ত: একনিষ্ঠতা ও বিশুদ্ধ নিয়ত

দ্বিতীয় শর্তটি হলো ‘ইহতিসাব’ বা একনিষ্ঠতা। ইবাদতকারীর নিয়ত কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের জন্য হতে হবে। তার ইবাদতে রিয়া, লোকদেখানো ভাব বা পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য জড়িত থাকা যাবে না। যদি নিয়ত বিশুদ্ধ না হয়, তবে সারারাত জেগে ইবাদত করলেও তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না।

মুমিনদের করণীয়

সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুসরণ করে শবে কদরের রাতে অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হওয়া। এই রাত তালাশ করা এবং উপযুক্ত প্রস্তুতি নিয়ে ইবাদত করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র রোজা রাখাই নয়, বরং নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়ার মাধ্যমে এই রাতকে কাজে লাগানো উচিত।

ইমানের দৃঢ়তা ও নিয়তের বিশুদ্ধতা এই দুই শর্ত পূরণ করলেই একজন মুমিন শবে কদরের পূর্ণ মর্যাদা ও আল্লাহর ক্ষমা লাভ করতে সক্ষম হবেন। রমজান মাসের এই বিশেষ রাতটি সঠিকভাবে ইবাদতের মাধ্যমে কাটানো প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।