ফিতরার টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ: ইসলামী শরিয়তের স্পষ্ট নির্দেশনা
ইসলামী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর মধ্যে জাকাত ও ফিতরা অন্যতম। তবে অনেক মুসলমানের মনে প্রশ্ন জাগে, ফিতরার টাকা দিয়ে কি মসজিদ নির্মাণ করা যাবে? ইসলামী বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে স্পষ্ট মত দিয়েছেন যে, জাকাত ও ফিতরা তথা ওয়াজিব সদকা দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না। এমনকি মসজিদের উন্নয়ন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করাও শরিয়তসম্মত নয়।
কুরআনে বর্ণিত আটটি খাত
ওয়াজিব সদাকা বণ্টনের জন্য আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আটটি নির্দিষ্ট খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুরা তাওবার ৬০ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
"নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।"
এই আটটি খাতের মধ্যে মসজিদ নির্মাণ বা সংস্কার কাজ অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ইসলামী বিধান অনুসারে, মসজিদের জন্য জাকাত-ফিতরার টাকা খরচ করা জায়েজ হবে না।
ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি
সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যার কাছে ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে। এই সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের হতে পারে।
- ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়
- ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন
- ফিতরা দিতে হয় ঈদের দু'একদিন আগে থেকে ঈদগাহে যাওয়ার আগ পর্যন্ত
জাকাত ও ফিতরার পার্থক্য
যদিও জাকাত ও ফিতরা উভয়ই ওয়াজিব সদকা, তবে এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
- জাকাত সারা বছর দেওয়া যায়, কিন্তু ফিতরা নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হয়
- জাকাতের জন্য সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত, ফিতরার জন্য নয়
- উভয় ক্ষেত্রেই বণ্টনের খাত একই—কুরআনে বর্ণিত আটটি খাত
ইসলামী শরিয়তের এই স্পষ্ট নির্দেশনা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদ নির্মাণ বা সংস্কার কাজে অর্থ দানের জন্য অন্য স্বেচ্ছাসেবী দান (সাদাকাহ) বা ওয়াকফের ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু জাকাত-ফিতরার টাকা কখনোই এই কাজে ব্যয় করা যাবে না।
