সেভ দ্য উম্মাহ বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ: ইসলামি শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের ডাক
পশ্চিমা সংস্কৃতির সয়লাবের বিপরীতে মুসলিম বিশ্বে বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে আলেমদের ভূমিকা সময়ের অপরিহার্য দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। মুসলমানদের ইমানের মৌলিকত্ব, স্বকীয় মূল্যবোধ, সভ্যতা-সংস্কৃতি রক্ষা এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের বিবরণ ও বক্তাদের অবস্থান
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর ফকিরাপুলে অবস্থিত হোটেল সেন্ট্রাল ইন-এ ‘সেভ দ্য উম্মাহ বাংলাদেশ’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বক্তারা ইসলামি শিক্ষা প্রচার এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়ার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল হাফেজ মাওলানা মাসরুর আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়।
মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়ার বক্তব্য
মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া তার বক্তব্যে বলেন, “প্রাথমিকভাবে চিন্তাবৃত্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিকভাবে মুসলমানদের পরাজয় পরবর্তী সব পরাজয়ের সূত্র টেনে আনে। তাই মুসলমানদের মধ্যে চিন্তাবৃত্তিক পুনর্জাগরণই এ থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে কাজ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের ময়দানে দুশমনের মোকাবিলায় সঠিক ইসলামি চেতনার মশালবাহীদের অলসতার সুযোগ নেই। তাদের ভূমিকা ও যথাসাধ্য চেষ্টা জাতির সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তি, জ্ঞান, গবেষণা, মনস্তত্ত্ব, ভাষা, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের আলোকে ইসলামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। ইসলামের মধ্যপন্থা ও উদারতার আদর্শকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া নবীজির পক্ষ থেকে আলেমদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। এ জন্য তরুণ আলেমদের সব মত পথের ঊর্ধ্বে উঠে দাওয়াতি মানসিকতায় এক হতে হবে।
নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামের শিক্ষা প্রচার
নতুন প্রজন্মের সামনে পূর্ণভাবে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা সময়ের অপরিহার্য দাবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ও অস্থিরতায় জীবন কাটাচ্ছে। তাই উম্মাহর পথপ্রদর্শক ও নবীর ওয়ারিস হিসেবে আলেমদের কর্তব্য হবে, মানুষকে শান্তি ও প্রশান্তির বার্তা দেওয়া। তাদের আবেগটা অনুভব করা, তাদের সঙ্গে মেশা, তাদের সকল প্রশ্ন ও দ্বিধা দূর করা।
অন্যান্য বক্তাদের মতামত
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল মালিক, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, শায়েখ যোবায়ের গণী, মাওলানা সাইফুদ্দিন ইউছুফ ফাহিম, মুফতি তানজিল আমির, মাওলানা কাউসার আহমদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সম্প্রীতি ও উদারতা ইসলামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তরুণ প্রজন্মের আলেমদের এ বিষয়টি বিশেষভাবে মেনে চলতে হবে। কারণ সহমর্মিতা ও সৌহার্দের পরিবেশ ছাড়া বিস্তৃতভাবে দ্বীনের কাজ করা সম্ভব হয় না।
সময়ের বাস্তবতা ও যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ আলেমদের এখন সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়তে হবে। তাই কোনো মতাদর্শকেন্দ্রিক চিন্তায় আবদ্ধ না থেকে সবার মাঝে দ্বীনি চেতনা বিস্তারে কাজ করতে হবে। এই প্রচেষ্টা ইসলামি শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
