রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ: একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল
ইসলাম ধর্মে রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত আমল হিসেবে বিবেচিত। হজরত উম্মে ছালামাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে তিনটি আমল কখনো পরিত্যাগ করেননি। এর মধ্যে একটি হলো রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন। এই আমলটি নবীজির আজীবনের অভ্যাস ছিল এবং তাঁর ওফাতের পরেও তাঁর বিবিগণ ঘরে ইতিকাফ করতেন।
ইতিকাফের সংজ্ঞা ও তাৎপর্য
ইতিকাফ শব্দের অর্থ অবস্থান করা বা আবদ্ধ থাকা। ইসলামি পরিভাষায় ইতিকাফ হলো ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজেকে আবদ্ধ রাখা। এটি বিশেষ করে শবে কদর পাওয়ার জন্য একটি অনন্য আমল হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইতিকাফকারীদের মর্যাদা উল্লেখ করেছেন।
ইতিকাফের সময় ও ধরন
রমজানের ২০তম দিন সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে শুরু করে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ত্রিশ রমজান পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফ পালন সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়াহ হিসেবে বিবেচিত। এর অর্থ হলো, কোনো মহল্লায় কয়েকজন বা অন্তত একজন ব্যক্তি এই ইতিকাফ আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবেন। তবে কম সময়ের ইতিকাফ সাধারণ সুন্নত বা নফল হিসেবে সওয়াব লাভের সুযোগ দেয়।
পুরুষ ও নারীদের জন্য ইতিকাফের স্থান
পুরুষদের জন্য: ইতিকাফ পালনের স্থান হলো মসজিদ। পাঞ্জেগানা মসজিদে ইতিকাফ করলে জুমার নামাজের জন্য জামে মসজিদে যাওয়া যাবে, তবে আসা-যাওয়ার পথে কথা বলা নিষিদ্ধ।
নারীদের জন্য: নারীদের নির্দিষ্ট ঘরে বা কক্ষে ইতিকাফ করতে হয়। এই কক্ষটি শয়নকক্ষ হলেও সমস্যা নেই, এমনকি স্বামী পাশে থাকতে পারবেন, তবে স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ নিষিদ্ধ।
ইতিকাফের নিয়ম ও সতর্কতা
- ইতিকাফকারী প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া নির্দিষ্ট স্থান থেকে বের হতে পারবেন না।
- অজু বা পবিত্রতার জন্য বাইরে গেলে কারও সঙ্গে কথা বলা যাবে না, সালামের জবাবও দেওয়া যাবে না।
- ইতিকাফ ছেড়ে বাইরের কোনো ইবাদতে শরিক হওয়া নিষেধ, যেমন জানাজা নামাজ, তবে সেসব ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে।
- ইতিকাফ ভঙ্গ করলে বা ছেড়ে দিলে তা কাজা আদায় করতে হবে।
ইতিকাফের ফজিলত ও উপকারিতা
ইতিকাফ পালনকারী ব্যক্তি আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন এবং শবে কদরের মতো মহিমান্বিত রজনী পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। এটি আত্মশুদ্ধি ও ধ্যানের একটি উত্তম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বছরের যেকোনো সময় ইতিকাফ করা যায়, তবে রমজানের শেষ দশকে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
লেখক: অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
