জাকাত ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, গঠিত হবে বিশেষ কমিটি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জাকাত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করার উপায় অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার সচিবালয়ের ক্যাবিনেট বিভাগে জাকাত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কাইকোবাদ, ধর্ম বিষয়ক সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ শেখ আহমদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা দেশের জাকাত ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রীর উপ-সচিব রনি জানান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটি জাকাত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পেশ করবে। প্রস্তাবিত কমিটিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, শেখ আহমদুল্লাহ এবং কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ও প্রখ্যাত আলেম অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
কমিটির গঠন ও সময়সীমা
কর্মকর্তাদের মতে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আগামী দশ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা প্রস্তাব করবে। এরপর কমিটি জাকাত ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ জমা দেবে। এই পদক্ষেপ জাকাত সংগ্রহ ও বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের ভূমিকা
গত শনিবার আলেম-উলেমা ইসলামিক পণ্ডিত ও এতিমদের সম্মাননা প্রদর্শন করে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, একটি সঠিক জাকাত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবারের সভায়ও একটি কার্যকর জাকাত ব্যবস্থাপনা কীভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুসংগঠিত জাকাত ব্যবস্থাপনা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার দিকে একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



