রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও জরুরি মাসায়েল
রমজানে ইতিকাফের গুরুত্ব ও মাসায়েল

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ: আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পথ

রমজান মাসের শেষ দশক মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময়। এই সময়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ইতিকাফ। আরবি শব্দ ইতিকাফের অর্থ হলো কোনো স্থানে অবস্থান করা বা নিজেকে সেখানে সীমাবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ বলতে বোঝায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা এবং দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে শুধুমাত্র ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকা।

ইতিকাফের ঐতিহাসিক ও কোরআনি ভিত্তি

ইতিকাফের প্রথা আগেকার নবীদের সময় থেকেই চলে আসছে। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে হুকুম করি, তোমরা আমার ঘরকে সেই সব লোকের জন্য পবিত্র করো, যারা (এখানে) তাওয়াফ করবে, ইতিকাফ করবে এবং রুকু ও সিজদা আদায় করবে।’ (সুরা বাকারা: ১২৫)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা ইসলামের পূর্ব থেকেই প্রচলিত ছিল।

ইতিকাফের জন্য জরুরি মাসায়েল ও নিয়মাবলি

ইতিকাফে বসার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল জানা অত্যাবশ্যক। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ: পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক। এক মহল্লায় একাধিক মসজিদ থাকলে সব কটিতে ইতিকাফ করা উত্তম, তবে জরুরি নয়। মহল্লার যেকোনো একটি মসজিদে কেউ ইতিকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট হবে।
  2. অন্য গ্রামের মসজিদে ইতিকাফ: কোনো গ্রামের মসজিদে অন্য গ্রামের লোক ইতিকাফ করলে ওই গ্রামের সবার পক্ষ থেকে সুন্নতে মুআক্কাদা কেফায়া আদায় হয়ে যাবে।
  3. প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া: প্রস্রাব-পায়খানা বা ফরজ গোসলের মতো প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ।
  4. বায়ু নির্গমন সম্পর্কে বিধান: মসজিদের ভেতরে বায়ু নির্গমন করা ফেরেশতা ও মুসল্লিদের কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য ফতোয়া অনুযায়ী, ইতিকাফকারী বায়ু নির্গমনের জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবেন।
  5. আজান দেওয়ার জন্য বের হওয়া: ইতিকাফকারী মুয়াজ্জিন হোক বা না হোক, আজান দেওয়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবেন।
  6. জানাজা বা রোগী দেখা: ইতিকাফ অবস্থায় জানাজা বা রোগী দেখার উদ্দেশ্যে বের হওয়া জায়েজ নেই। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে (যেমন টয়লেটে যাওয়া) বের হয়ে পথিমধ্যে রোগী দেখা বা জানাজায় শরিক হওয়া জায়েজ।
  7. ইতিকাফ শুরু করার সময়: ২০ রমজানের সূর্যাস্তের (মাগরিব) আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। মাগরিবের পর প্রবেশ করলে সেটি সুন্নত ইতিকাফ হবে না; বরং নফল ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে।
  8. ইতিকাফ শেষ করার সময়: ইতিকাফের শেষ সময় হলো ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত। ২৯ বা ৩০ রমজান যদি সূর্যাস্তের আগে চাঁদ দেখা যায়, তবুও সূর্য ডোবার আগে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না।
  9. জুমার নামাজ ও খাবারের ব্যবস্থা: ইতিকাফরত মসজিদে যদি জুমার ব্যবস্থা না থাকে, তবে শুধু জুমার নামাজ আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়া জায়েজ। এ ছাড়া খাবার পৌঁছে দেওয়ার লোক না থাকলে খাবার আনতে বের হওয়া যাবে।
  10. প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে দেরি না করা: প্রাকৃতিক বা শরয়ি প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে কাজ শেষে সামান্য সময়ও (আধা মিনিট) দেরি করা যাবে না। অহেতুক দেরি করলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

ইতিকাফ মুসলিমদের জন্য একটি মহান ইবাদত যা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অনন্য সুযোগ তৈরি করে। সঠিক নিয়মে ইতিকাফ পালন করলে এর ফজিলত ও পুরস্কার অর্জন করা সম্ভব।