রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ শুরু ১০ মার্চ, জানুন বিধি-নিষেধ ও প্রস্তুতি
১০ মার্চ শুরু ইতেকাফ, রমজানের শেষ দশকে বিশেষ ইবাদত

রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ শুরু ১০ মার্চ, বিশেষ ইবাদতে আত্মনিয়োগের আহ্বান

মুসলিম বিশ্বের জন্য পবিত্র রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ইতেকাফ এ বছর ২০ রমজান মোতাবেক ১০ মার্চ মঙ্গলবার শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ইফতারের আগেই ইতেকাফকারীরা মসজিদে উপস্থিত হয়ে এই বিশেষ ধর্মীয় আচরণ পালনে ব্রতী হবেন। ইতেকাফ মূলত রমজানের শেষ দশ দিনে পালন করা হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও লাইলাতুল কদর পাওয়ার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত।

ইতেকাফের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য

রমজানে ইতেকাফ পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভের জন্য নিজেকে ইবাদত-বন্দেগিতে সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত করা। এটি আল্লাহর চূড়ান্ত সন্তুষ্টি অর্জনের মর্যাদাপূর্ণ রাত লাইলাতুল কদর পাওয়ার চেষ্টায় আত্মনিয়োগের একটি অনন্য সুযোগ। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের প্রতিটি বছরই রমজানে ইতেকাফ পালন করতেন, যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।

ইতেকাফকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন ইবাদাত-বন্দেগির সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই ইবাদত পালনের মাধ্যমে লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, এবং এটি নিজের নফসকে আল্লাহর ইবাদতে আবদ্ধ করে তাঁর সঙ্গে আধ্যাত্মিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলার একমাত্র পথ। তাই দুনিয়ার সব ধরনের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর জিকির-আজকারে মগ্ন হওয়া ইতেকাফের অপরিহার্য দিক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইতেকাফের সময় ও বিধি-নিষেধ

ইতেকাফ রমজানের শেষ দশ দিনে পালন করতে হয়, যার জন্য কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি আবশ্যক। ইতেকাফে বসার পর রোজাদার ব্যক্তি কোনো ধরনের কথা-বার্তা, লেন-দেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি বা অন্য কোনো পার্থিব কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এই বিধি-নিষেধ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: "তোমরা মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে (তোমাদের স্ত্রীদের) সাথে সঙ্গম করো না।" (সুরা বাকারা: আয়াত ১২৭)।

ইতেকাফের পূর্বে করণীয় প্রস্তুতি

ইতেকাফে বসার আগে বেশ কিছু আবশ্যক করণীয় সম্পন্ন করা মুমিন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  • পরিবারের ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা
  • ফিতরা আদায়ের ব্যবস্থা করা
  • পরিবারের ব্যয়ভার বহনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করা
  • মসজিদে ইফতার ও সেহরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা
  • দুনিয়াবি জরুরি সম্ভাব্য কাজের সমাধানের ব্যবস্থা করা
  • পারিবারিক যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়াদির ব্যবস্থা করে যাওয়া

সুতরাং, ইতেকাফে বসার জন্য মসজিদে প্রবেশের আগেই প্রয়োজনীয় পারিবারিক সব সমস্যার সমাধানে সার্বিক ইন্তেজাম সম্পন্ন করা আবশ্যক, যাতে এই পবিত্র ইবাদত নির্বিঘ্নে পালন করা যায়।