রমজানের ১৩তম তারাবিহ: মুসা (আ.)-এর ধৈর্যের পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
আজ ২ মার্চ, ২০২৬। ১২ রমজান শেষ হয়ে ১৩ রমজানের সন্ধ্যা শুরু হয়েছে। ক্ষমার দশকের তৃতীয় তারাবিহ আজ পড়া হবে, যেখানে হাফেজে কুরআনগণ সুরা কাহফের ৭৫ থেকে ১১০ নম্বর আয়াত, সুরা মারইয়াম ও সুরা ত্বাহার তেলাওয়াত করবেন। এই তেলাওয়াতে হজরত মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঐতিহাসিক ঘটনা, জুলকারনাইনের পরিচয় এবং নবুয়তের সত্যতা প্রমাণকারী বহু বিষয় বর্ণিত হবে।
মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর শিক্ষামূলক সফর
হজরত মুসা (আ.) জ্ঞানের গভীর রহস্য জানার জন্য হজরত খিজির (আ.)-এর সঙ্গে একটি শিক্ষামূলক সফরে বের হন। এই সফরের প্রধান শর্ত ছিল, যত ঘটনাই ঘটুক মুসা (আ.) কোনো প্রশ্ন করবেন না। কিন্তু তিনটি ঘটনার সম্মুখীন হয়ে তিনি প্রতিবারই শর্ত ভঙ্গ করেন। প্রথমে একটি নৌকা ছিদ্র করা, তারপর একটি শিশুকে হত্যা এবং শেষে একটি প্রাচীর সোজা করে দেওয়া—এই ঘটনাগুলো দেখে মুসা (আ.) ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি। ফলে খিজির (আ.) ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে সফরের ইতি টানেন।
ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা
সুরা কাহফের আয়াতগুলোতে এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে:
- নৌকা ছিদ্র করার কারণ: নৌকাটি কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির ছিল, যারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। একটি অত্যাচারী বাদশাহ ভালো নৌকাগুলো জোর করে ছিনিয়ে নিত, তাই নৌকাটি খারাপ করে দেওয়া হয়েছিল তাদের রক্ষার জন্য।
- শিশু হত্যার কারণ: শিশুটির পিতা-মাতা ছিলেন ঈমানদার, কিন্তু শিশুটি বড় হয়ে অবাধ্য ও কাফির হয়ে তাদের কষ্ট দিত। তাই আল্লাহ তাদের জন্য তার চেয়ে ভালো ও পবিত্র সন্তান দান করার ইচ্ছায় এটি করা হয়েছিল।
- প্রাচীর সোজা করার কারণ: প্রাচীরটি ছিল দুটি ইয়াতিম বালকের, যার নিচে তাদের পিতার রেখে যাওয়া গুপ্তধন ছিল। তাদের পিতা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ, তাই আল্লাহ চেয়েছিলেন তারা বড় হয়ে নিজেদের সম্পদ উদ্ধার করুক।
আজকের তারাবিহতে বিশেষ দোয়া
আজকের তারাবিহতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তেলাওয়াত করা হবে, যা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত উপকারী:
- জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া: সুরা ত্বাহার ২৫-২৯ নম্বর আয়াতে হজরত মুসা (আ.)-এর দোয়া, যেখানে তিনি আল্লাহর কাছে বক্ষ প্রশস্ত করা, কাজ সহজ করা, জিহ্বার জড়তা দূর করা এবং পরিবার থেকে সাহায্যকারী দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।
- সন্তান কামনার দোয়া: সুরা মারইয়ামের ৩-৪ নম্বর আয়াতে হজরত জাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া, যেখানে তিনি বার্ধক্যে সন্তান লাভের জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করেন।
সুরা কাহফে জুলকারনাইনের বর্ণনা
সুরা কাহফের শেষাংশে ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ জুলকারনাইনের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি ইয়াজুজ ও মাজুজের অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। আল্লাহ তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তিনি সৎকর্মশীলদের জন্য কল্যাণ ও পাপীদের জন্য শাস্তির বিধান করেছিলেন।
সুরা মারইয়াম ও ত্বাহার শিক্ষা
সুরা মারইয়ামে হজরত মারইয়াম (আ.)-এর পবিত্রতা, হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম ও হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা ত্বাহায় হজরত মুসা (আ.)-এর নবুয়ত লাভ, ফেরাউনের সাথে সংঘাত এবং বিভিন্ন মুজিজার বর্ণনা রয়েছে। এই সুরাগুলো তাওহিদের প্রতি বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করে।
রমজানের এই পবিত্র রাতে মুসলিম উম্মাহর জন্য এই তেলাওয়াত হৃদয়কে সিক্ত করবে এবং ঈমানকে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা যায়।



