রোজায় অজু-গোসলের সময় সতর্কতা: অনিচ্ছাকৃত পানি গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে
রোজায় অজু-গোসলের সময় পানি গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে

রোজায় অজু ও গোসলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা কেন জরুরি

রমজান মাসে রোজা পালন একজন মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত। তবে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে অসাবধানতার কারণে অনেক সময় রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে অজু বা গোসলের সময় কুলি করা কিংবা নাকে পানি দেওয়ার মুহূর্তে পানি গলার ভেতরে চলে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। এই অবস্থায় রোজার হাল কী হবে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট ও নির্ধারিত বিধান রয়েছে, যা প্রতিটি মুমিনের জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিসে রোজা অবস্থায় অজুর নির্দেশনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর একটি হাদিসে রোজা অবস্থায় অজু ও গোসলের সময় বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাহাবি লাকিত ইবনে সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন— ‘তোমরা অজু ও গোসলের সময় নাকে ভালোভাবে পানি দেবে; তবে রোজা অবস্থায় নয়।’ (আবু দাউদ ২৩৬৩, তিরমিজি ৭৮৫)। এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, রোজা রাখা অবস্থায় অজু বা গোসলের সময় নাকে পানি দেওয়া ও কুলি করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। সাধারণ সময়ে যেমন নাকে পানি দেওয়ার ব্যাপারে উদারতা দেখানো যায়, রোজার দিনে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইসলামি স্কলারদের মতামত ও ফিকহি বিধান

প্রখ্যাত তাবেয়ি ও মুহাদ্দিস হজরত সুফিয়ান সাওরি (রাহ.) তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন— ‘রোজা অবস্থায় কুলি করতে গিয়ে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতরে পানি চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তা কাজা করতে হবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক ৭৩৮০)। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিধান অজু ফরজ নামাজের জন্য হোক কিংবা নফল নামাজের জন্য—উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, রোজা অবস্থায় অজু বা গোসলের সময় রোজার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি গলার ভেতরে চলে যায়, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।

রোজা ভেঙে যাওয়া রোধে করণীয়

রোজা ভেঙে যাওয়ার এই ঝুঁকি এড়াতে মুসলিমরা কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন:

  • অজু বা গোসলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে কুলি ও নাকে পানি দেওয়া।
  • পানি গলায় না যাওয়ার জন্য মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে অজু করা।
  • রোজার কথা স্মরণ রেখে ধীরে ও সাবধানে অজুর প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করা।
  • অনিচ্ছাকৃত পানি গিলে ফেলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত ইসলামি স্কলার বা আলেমের পরামর্শ নেওয়া।

রোজা পালনের সময় এই ধরনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো জানা এবং মেনে চলা একজন মুমিনের ঈমানি দায়িত্বের অংশ। শরিয়তের বিধান মোতাবেক সঠিকভাবে রোজা আদায় করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রতিদান লাভ করা সম্ভব হয়। তাই রোজার দিনে অজু ও গোসলের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে বেঁচে থাকা উচিত।