সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ভোলার দরবারের অনুসারীরা একদিন আগে রমজান শুরু করেছেন
ভোলা জেলার বিভিন্ন দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র রমজান মাসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। মঙ্গলবার দিনগত রাতে প্রথম তারাবির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে তারা এই ধর্মীয় মাসের সূচনা করেন।
ভোলার সাত উপজেলায় ব্যাপক অনুসরণ
জানা গেছে, ভোলার সাতটি উপজেলা—ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরার অন্তত ১০টি গ্রামে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অনুসারী একদিন আগে রোজা পালন করছেন।
তাঁরা নিজ নিজ মসজিদ ও পাঞ্জেখানায় এশার নামাজের পর তারাবি আদায় করেন এবং ভোররাতে সাহ্রি গ্রহণ করেন।
কোন দরবারের অনুসারীরা অংশ নিচ্ছেন?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার, সুরেস্বর দরবার শরিফ, মাইজভান্ডার দরবার, আটরশি দরবার ও দুদুমিয়া দরবারের অনুসারী রয়েছেন।
- বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামে প্রায় এক হাজার সুরেস্বর দরবারের অনুসারী রয়েছেন।
- একই ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামে আরও প্রায় এক হাজার সুরেস্বর দরবারের অনুসারী রয়েছেন।
অনুসারীদের বক্তব্য
মুলাইপত্তন গ্রামের সুরেস্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে মো. সুমন বলেন, "সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করেছি। ভোরে সাহ্রি খেয়ে বুধবার থেকে রোজা পালন শুরু করব। আমাদের গ্রামে প্রায় এক হাজারের বেশি অনুসারী আছেন।"
মনিরাম গ্রামের সুরেস্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম বলেন, "আমরা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করি—বিষয়টি এমন নয়। ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিই। পৃথিবীর যে–কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে আমরা রোজা ও ঈদ পালন করি।"
এই অনুসারীরা তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে রমজান পালন করছেন, যা ভোলা জেলায় একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
