কুরবানি ও আকিকা: এক পশুতে দেওয়া যাবে কি? ইসলামের নির্দেশনা
কুরবানি ও আকিকা: এক পশুতে দেওয়া যাবে কি?

ইসলামে কুরবানি ও আকিকা উভয়ই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরবানি একটি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ইবাদত, যা ঈদুল আযহার সময় পালন করা হয়। অন্যদিকে, আকিকা সন্তানের জন্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সুন্নত। অনেক সময় বাস্তব প্রয়োজন বা শরিকানার সুবিধার্থে প্রশ্ন ওঠে: একই পশুতে কি কুরবানি ও আকিকা একসঙ্গে আদায় করা যাবে? এই বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা জানা জরুরি।

কুরবানির পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে কি?

কুরবানি যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়, আকিকাও একই উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। তাই এক পশুতে কুরবানি ও আকিকার নিয়ত একত্র করা শরিয়তসম্মত। উট বা গরুর মতো বড় পশু, যেগুলোতে সাতজন পর্যন্ত শরিক হওয়া যায়, সে ধরনের পশুতে কিছু অংশ কুরবানির জন্য এবং কিছু অংশ আকিকার জন্য নির্ধারণ করা বৈধ। যেমন, চারজন কুরবানি করলে বাকি দুই বা তিনজন আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারেন। একইভাবে, যেমন কুরবানিতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারে, তেমনি আকিকাতেও একাধিক ব্যক্তি একই পশুতে অংশ নিতে পারে। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬)

আকিকার গুরুত্ব ও বিধান

আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি সন্তানের জন্য কল্যাণ ও বরকতের একটি মাধ্যম। আকিকা সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ক্লু গুলামিন মুর্তাহানুন বি-আকিকাতিহি... ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে বন্ধক থাকে। জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করা হবে, তার নাম রাখা হবে এবং মাথা মুন্ডন করা হবে।’ (তিরমিজি ১৫২২)
  • আন্না নাবিয়্যা (সা.) আক্কা আনিল হাসানি বিশাতিন ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তার নাতি হাসান (রা.)-এর পক্ষ থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করেছেন।’ (তিরমিজি ১৬০২)
  • আমারানা রাসুলুল্লাহি (সা.) আনিল গুলামি শাতানি ওয়া আনিল জারিয়াতি শাতুন ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন— ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল আকিকা করতে।’ (তিরমিজি)
  • ইন্নাল ইয়াহুদা তা’ক্কু আনিল গুলামি ওয়া লা তা’ক্কু আনিল জারিয়াতি... ‘ইহুদিরা ছেলে সন্তানের আকিকা করত, কিন্তু মেয়ের করত না। তোমরা ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল দিয়ে হলেও আকিকা করো।’ (বায়হাকি ১৯৭৬০)

আকিকার সময়

সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। তবে যদি সে দিনে সম্ভব না হয়, তাহলে পরবর্তী যেকোনো সময়ে তা আদায় করা যাবে। এমনকি কুরবানির ঈদের দিনও আকিকা করা জায়েজ।

কুরবানি ও আকিকা—উভয় ইবাদতের লক্ষ্য একটাই: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। শরিয়তের দৃষ্টিতে, বিশেষ করে বড় পশুর ক্ষেত্রে এক পশুতে কুরবানি ও আকিকার নিয়ত একত্র করা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য। এটি মুসলিমদের জন্য সহজতা ও সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই সঠিক নিয়ত ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে উভয় ইবাদত আদায় করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার আশা করা যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।