সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে কেউ কেউ জাকাত ও ফিতরার চেয়ে চাঁদাবাজিকে উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের উক্তি অত্যন্ত গুরুতর এবং ঈমানি অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই নিবন্ধে বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।
জাকাত ও ফিতরার মর্যাদা
জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। পবিত্র কুরআনে বারবার নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো’ (সূরা বাকারা: ৪৩)। অন্যদিকে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা একটি ওয়াজিব ইবাদত, যা রমজানের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করে এবং দরিদ্রদের সাহায্য করে।
চাঁদাবাজি: একটি কবিরা গুনাহ
ইসলামে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করাকে ‘গসব’ ও ‘জুলুম’ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেন: ‘তোমাদের জান, মাল ও সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের এ দিন, এ মাস ও এ শহর সম্মানিত’ (সহিহ বুখারি: ৬৭)। আরও বলেন: ‘যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে’ (সহিহ বুখারি: ২৪৫৩)। সুতরাং চাঁদাবাজি একটি জঘন্য কবিরা গুনাহ।
ফরজের ওপর হারামকে প্রাধান্য দেওয়ার বিধান
ইসলামি আকাইদ ও ফিকহের সর্বসম্মত নীতি হলো, কোনো ফরজ বিধানকে তুচ্ছ করা বা হারামের সঙ্গে তুলনা করে হারামকে শ্রেষ্ঠ বলা কুফরি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ‘আল-ফিকহুল আকবর’-এ বলেন, ইসলামের অকাট্য বিধান নিয়ে উপহাস করা ঈমান ভঙ্গের কারণ। ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৩) বলা হয়েছে, শরিয়তের কোনো বিধানকে তুচ্ছ মনে করলে সে কাফির হয়ে যাবে। ফতোয়ায়ে শামি (রদ্দুল মুহতার) অনুযায়ী, হারামের শ্রেষ্ঠত্ব ফরজের ওপর দেওয়া সরাসরি ধর্মত্যাগের নামান্তর।
চাঁদাবাজি উত্তম বললে ঈমানের অবস্থা
যদি কোনো ব্যক্তি সচেতনভাবে এবং বিশ্বাস রেখে বলে যে ‘জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো’, তবে শরিয়তের ফয়সালা অনুযায়ী সে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হবে এবং তার পূর্বের সকল নেক আমল বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি কেউ না বুঝে বা রাগের মাথায় এমন কথা বলে ফেলে, তবে তাকে দ্রুত ঈমান নবায়ন করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
জাকাত আল্লাহর হক এবং গরিবের অধিকার, যা সমাজ থেকে অভাব দূর করে। অপরদিকে চাঁদাবাজি মানুষের ওপর জুলুম, যা সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। পবিত্র ইবাদতকে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে তুলনা করা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। প্রতিটি মুসলমানের উচিত মুখ নিঃসৃত প্রতিটি শব্দে সচেতন হওয়া, নিজের পরকাল বাঁচানো এবং সমাজকে কলুষমুক্ত রাখা।



