মসজিদে নববীতে ৭০ বছর ধরে চা-কফি পরিবেশন করছে সিন্ধি পরিবার
মসজিদে নববীতে ৭০ বছর ধরে সেবা দিচ্ছে পরিবার

মসজিদে নববীতে তিন প্রজন্মের সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত

মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীতে জিয়ারতকারীদের কাছে এক পরিচিত ও প্রিয় নাম মোহাম্মদ আলী আবদুর রহমান আল সিন্দি। টানা সাত দশক ধরে তার পরিবার মুসল্লিদের জন্য চা, কফি, ইফতার ও খাবার পরিবেশন করে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা এই আতিথেয়তার ধারা এখন তৃতীয় প্রজন্মের হাতে পৌঁছেছে, যা একটি অনন্য সেবামূলক ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তান থেকে মদিনায় স্থায়ী সেবার যাত্রা

মূলত পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে আগত এই পরিবারটি গত ৭০ বছর ধরে মদিনায় অবস্থান করে আল্লাহর মেহমানদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের দাদা যে সেবামূলক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা তার ছেলে হয়ে এখন নাতির হাতে ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে। বছরের প্রতিটি সময়ই তাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মুসল্লিদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ।

নিয়মিত ইফতার ও বিশেষ দিনের আয়োজন

প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার তারা ইফতারের আয়োজন করেন, যা মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ—যা আইয়ামে বিজ নামে পরিচিত—সেসব দিনেও মুসল্লিদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। আর পবিত্র রমজান মাসজুড়ে তাদের বিশেষ দস্তরখান থাকে, যেখানে অসংখ্য রোজাদার অংশ নেন, যা এই পরিবারের সেবার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও বর্তমান দায়িত্ব

বর্তমানে এই ঐতিহ্যের দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ আলী আবদুর রহমান আল সিন্দি। তিনি জানান, তার দাদা প্রথমে মদিনার আল আইনিয়া এলাকায় একটি ছোট খাবারের স্টল বা ‘সাফরা’ চালু করেন। পরবর্তীতে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ ও সংস্কারের সময় তার বাবা সেই কার্যক্রম বর্তমান স্থানে স্থানান্তর করেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি নিজেই পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন, যা এই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সৌভাগ্য ও স্থানীয় সমাজে একীভূত হওয়া

নিজেদের এই দীর্ঘ পথচলা নিয়ে তিনি বলেন, মদিনা একটি বরকতময় ভূমি। তিন প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করা এবং নবীজির মেহমানদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি একটি স্থানীয় প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, মসজিদের নিকটবর্তী ঘরই সর্বোত্তম—আর তাদের কাছে আল্লাহর ঘরের পাশে থেকে মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।

মোহাম্মদ আলীর সন্তানরাও মদিনার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে বেড়ে উঠেছে। ফলে পাকিস্তান থেকে আগত এই পরিবারটি এখন মদিনার সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে গেলেও মসজিদে নববীর আঙিনায় এই সিন্ধি পরিবারের আন্তরিক আতিথেয়তা আজও অটুট ও অমলিন রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।