মৃতব্যক্তিকে কবরে সুন্নত পদ্ধতিতে কেবলামুখী করে শোয়ানোর সঠিক নিয়ম
প্রিন্ট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম। ইসলাম ও জীবন ডেস্ক। প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১১ পিএম।
মাইয়্যেতের শুধু চেহারা কেবলামুখী করে দেওয়া একটি ভুল আমল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মৃতব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় চিত করে শুইয়ে শুধু তার চেহারা কেবলামুখী করে দিলেই যথেষ্ট। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং সুন্নত পদ্ধতির সাথে সাংঘর্ষিক।
সুন্নত পদ্ধতি কী?
সুন্নত পদ্ধতি হল মৃতব্যক্তিকে কবরে ডান কাত করে শুইয়ে সিনা এবং চেহারা কেবলার দিকে করে রাখা। প্রয়োজনে মাইয়্যেতকে পূর্বের দেয়ালের সঙ্গে টেক লাগিয়ে রাখতে হবে, যাতে তাকে সহজে ডান কাত করে রাখা যায়। চিত করে শুইয়ে শুধু চেহারা কিবলার দিকে ঘুরিয়ে রাখলে তা সুন্নতসম্মত হবে না।
প্রসিদ্ধ তাবেঈ হজরত ইবরাহীম নাখায়ী (রাহ.) বলেন, ‘মাইয়্যেতকে কিবলামুখী করে রাখো।’ হজরত সুফিয়ান (রাহ.) বলেন, ‘ডান কাতে রাখো, যেমনিভাবে লাহদ কবরে রাখা হয়।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬০৬০)।
কবর খননের সময়ই ভাবা জরুরি
এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কবর খনন করার সময়ই বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে ভাবা উচিত। কবর এমনভাবে খনন করা উচিত, যাতে মাইয়্যেতকে সহজে কেবলামুখী করে রাখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু এলাকায় দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবে কবর খনন শেষে কবরের ফ্লোরের মাঝ বরাবর চিকন করে এক বিঘত পরিমাণ গভীর করে খনন করা হয়। এর ফলে মাইয়্যেতকে সহজেই কাত করে কিবলামুখী করে শোয়ানো সম্ভব হয়।
মূলকথা হলো, কবর খননের সময়ই বিষয়টি নিয়ে ভাবা চাই। কবরের ফ্লোর বা মেজে পশ্চিম দিকে ঢালু রেখে তৈরি করা উচিত। এতে মাইয়্যেতকে বা চেহারাকে কেবলামুখী করে ঘুরিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। মেজে ঢালু থাকার কারণে মৃতব্যক্তির পুরো দেহই কেবলামুখী থাকবে।
আর কোথাও যদি তা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত পন্থা অবলম্বন করা যায়, অর্থাৎ কবরের পূর্ব দেয়ালের সাথে টেক লাগিয়ে রাখা। আল্লাহ আমাদের বিষয়টি বোঝা ও আমল করার তাওফিক দান করুন।



