মসজিদুল হারামে কাবা দর্শনে ও তাওয়াফের বিশেষ দোয়া ও সুন্নত পদ্ধতি
কাবা দর্শনে ও তাওয়াফের বিশেষ দোয়া ও সুন্নত পদ্ধতি

মসজিদুল হারামে কাবা দর্শনের বিশেষ দোয়া ও তাওয়াফের সুন্নত পদ্ধতি

মসজিদুল হারামে প্রবেশ করার পর পবিত্র কাবা শরিফ চোখে পড়ার মুহূর্তটি মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়ার সুন্নত রয়েছে, যা আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে আমল করতেন। তাবেঈ মাকহুল (রহ.) বর্ণনা করেছেন, নবিজি (সা.) কাবা দেখে নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করতেন।

কাবা দর্শনের দোয়া: উচ্চারণ ও অর্থ

দোয়াটি হলো: اللهمَّ زِدْ هذا البيتَ تشريفًا وتعظيمًا وتكريمًا ومهابَةً وزِدْ مِن شرَفِهِ وعِظَمِهِ مِمَنْ حجَّهُ أو اعتَمرَهُ تشريفًا وتكريمًا وتعظيمًا ومهابَةً وبِرًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরীফান ওয়া তা'যীমান ওয়া তাকরীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া যিদ মিন শারাফিহি ওয়া ই'যামিহি মিম্মান হাজ্জাহূ আও ই'তামারাহূ তাশরীফান ওয়া তাকরীমান ওয়া তা'যীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া বিররান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এই পবিত্র ঘরকে আরও বেশি সম্মান, মর্যাদা, মহিমা ও ভয়-ভক্তিতে পূর্ণ করুন। আর যারা হজ বা উমরা করে তাদের মধ্য থেকেও এই ঘরের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন — তাদেরকে সম্মান, মর্যাদা, মহিমা, ভয়-ভক্তি ও পূণ্য দ্বারা অধিকতর সম্মানিত করুন। এই দোয়াটি কাবা শরিফের মাহাত্ম্য বৃদ্ধির জন্য এবং হজ ও উমরা পালনকারীদের জন্য কল্যাণ কামনা করে।

তাওয়াফের সময়ের দোয়া ও সুন্নত পদ্ধতি

কাবা তাওয়াফের সময় কোনো নির্দিষ্ট দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয়; যে কোনো দোয়া বা জিকির পাঠ করা যায়। তবে হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে, যা সুন্নত হিসেবে অনুসরণীয়।

তাওয়াফ শুরুর সময়: তাওয়াফ শুরু করার সময় এবং প্রতি চক্করের শুরুতে হাজরে আসওয়াদের সামনে তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলা সুন্নত। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, নবিজি (সা.) কাবা ঘরের চারপাশে উটের পিঠে তাওয়াফ করেছিলেন এবং যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছতেন, তখন তার হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে সেদিকে ইশারা করতেন এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদের দিকে যাওয়ার সময়: এই অংশে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোরআনে উল্লেখিত একটি দোয়া পড়তেন বলে বর্ণিত রয়েছে। দোয়াটি হলো: رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাহ ওয়া কিনা আযাবান-নার।

অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা: ২০১) এই দোয়াটি সুনানে আবু দাউদে উল্লেখিত হয়েছে এবং এটি বিশ্বাসীদের জন্য একটি সার্বিক কল্যাণের প্রার্থনা।

তাওয়াফের সময় অন্যান্য জিকির, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া বা উত্তম অর্থবোধক কোনো প্রার্থনা পাঠ করাও জায়েজ। মূল বিষয় হলো, আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে মনোনিবেশ করা। এই আমলগুলো হজ ও উমরা পালনকারীদের জন্য আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে এবং ইসলামের সুন্নত পদ্ধতির অনুসরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।