কুরবানির পশু কেনার আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো
কুরবানির পশু কেনার আগে জরুরি বিষয়

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কুরবানি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে পশুরহাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে কুরবানির পশু কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি।

কুরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত

হজরত মিখজাফ ইবনে সালিম (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে সমবেত লোকদের উদ্দেশে বলতে শুনেছেন, ‘হে লোক সকল! জেনে রাখ, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা কর্তব্য। আর যার সামর্থ্য নেই, তার ওপর কুরবানি কর্তব্য নয়। কারণ আল্লাহ কারও ওপর এমন কোনো কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না, যা তার সাধ্যের বাইরে।’ (তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ১০ বছর জীবনের প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন।’ (তিরমিজি : ১৫০৭)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর স্মৃতি। তিনি ত্যাগের পরীক্ষায় নিজ পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। তার এ আত্মত্যাগ আল্লাহর কাছে এতই প্রিয় হয়েছিল যে, কেয়ামত পর্যন্ত সব সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ইবরাহীম (আ.)-এর স্মৃতির অনুশীলনে কুরবানি করা ওয়াজিব হয়েছে।

একবার সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! কুরবানির তাৎপর্য কী?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘কুরবানি করা তোমাদের ধর্মীয় পিতা হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত।’ সাহাবিরা পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এতে আমাদের জন্য কী সওয়াব রয়েছে?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব হবে এবং কুরবানির দিন আল্লাহ তায়ালার নিকট পশু জবাই অপেক্ষা অন্য কোনো আমল বেশি পছন্দনীয় নয়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২৬০)

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুরবানি না করার ক্ষতি

সামর্থ্য থাকার পরও কেউ যদি কুরবানি না করে, তাকে হাদিসে নিন্দা করা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু কুরবানি করে না—সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৩৫১৯; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব: ২/১৫৫)

কুরবানির পশু কেনার আগে যা জানা জরুরি

পশুর প্রকার ও বয়স

শরিয়তে কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট পশু হলো গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। অন্য কোনো পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়। বয়সের ক্ষেত্রে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স অন্তত এক বছর, গরু ও মহিষের বয়স অন্তত দুই বছর এবং উটের বয়স অন্তত পাঁচ বছর হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এত হৃষ্টপুষ্ট হয় যে ছয় মাসের দেখতে এক বছরের মতো লাগে, তাহলে সেটি দিয়ে কুরবানি করা যাবে।

পশুর শারীরিক সক্ষমতা

কুরবানির পশু হতে হবে সুস্থ, স্বাভাবিক ও সবল। এমন দুর্বল পশু কেনা যাবে না যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে বা কুরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারবে না। এরকম পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। বরং মোটা-তাজা পশু দিয়ে কুরবানি করা মুস্তাহাব।

কোনো পশুর একটি পা যদি এমনভাবে নষ্ট হয়ে যায় যে, চলার সময় সেটি দিয়ে কোনো সাহায্য নিতে পারে না, তাহলে ওই পশু দিয়ে কুরবানি হবে না।

সুতরাং, কুরবানির পশু কেনার আগে অবশ্যই পশুর বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও শরিয়তসম্মত বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নিন। তাহলেই আপনার কুরবানি হবে আল্লাহর দরবারে কবুল।