ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি জায়েজ? ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যা
ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি জায়েজ? ইসলামি ব্যাখ্যা

প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশু কেনাবেচায় আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে ওজন করে দাম নির্ধারণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক খামারি ও বিক্রেতা জীবন্ত পশুর ওজন মেপে প্রতি কেজি দাম ঠিক করছেন, যা ক্রেতাদের কাছেও গ্রহণযোগ্য। তবে প্রশ্ন উঠেছে—ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? ইসলামি ফিকহের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

ওজন করে পশু কেনা কি বৈধ?

শরিয়তের দৃষ্টিতে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করা বৈধ ও জায়েজ। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, এটি কেনাবেচার একটি সহজ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ন্যায্য মূল্যে একমত হতে পারেন এবং প্রতারণার আশঙ্কা কমে যায়। ইসলাম যেহেতু অন্যায়ভাবে কারও ক্ষতি সমর্থন করে না, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী এ পদ্ধতি শরিয়তসম্মত।

কুরবানিতে নিয়তের গুরুত্ব

ওজন করে পশু কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়ত। কুরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক চেষ্টার ওপর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভালো নিয়তের সওয়াব

যদি কেউ বেশি গোশত পাওয়ার আশায় বড় পশু কেনেন, যাতে দরিদ্র, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বেশি বিতরণ করতে পারেন, তাহলে এটি উত্তম নিয়ত। এতে ইবাদতের সৌন্দর্য ও মানবিকতা প্রকাশ পায় এবং সওয়াবও রয়েছে।

ভুল নিয়তের ক্ষতি

অন্যদিকে, যদি কেবল লাভ-ক্ষতির হিসাব, কত কেজি গোশত পাওয়া যাবে বা লোকদেখানোর মানসিকতা প্রাধান্য পায়, তাহলে কুরবানির মূল শিক্ষা ও আত্মিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কুরবানি শুধু মাংস অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিজিটাল স্কেলে পশু কেনায় ধর্মীয় বাধা নেই

বর্তমানে ডিজিটাল স্কেলে ওজন মেপে স্বচ্ছতার সঙ্গে পশু কেনাবেচা করা হচ্ছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ওজন করার প্রক্রিয়া যেন শুধুমাত্র লাভ-লোকসানের অঙ্কে সীমাবদ্ধ না হয়ে যায়। কুরবানির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো—সঠিক নিয়ত, শরিয়তসম্মত পশু নির্বাচন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

ওজন করে কুরবানির পশু কেনা আধুনিক ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি, যা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে কুরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নির্ভর করে মানুষের অন্তরের তাকওয়া ও নিয়তের ওপর। তাই পশুর ওজন বা দামের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ইবাদতের উদ্দেশ্য, মানবিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে। তথ্যসূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৯৭; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৯; ফাতাওয়া কাসিমিয়া, খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৩৫৩।