কুরবানির ঈদ সামনে রেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— কুরবানির আগে নখ ও চুল কাটা যাবে কি না? ইসলামের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে হাদিসে।
হাদিসে কী বলা হয়েছে?
হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার কাছে কুরবানির পশু আছে এবং সে কুরবানি দিতে চায়, আর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে; সে যেন কুরবানি করার আগে চুল ও নখ না কাটে।’ (মুসলিম ১৯৭৭, আবু দাউদ ২৭৯১, তিরমিজি ১৫২৩, নাসাঈ ৪৩৬১, ইবনে মাজাহ ৩১৫০, মুসনাদে আহমদ ২৬৬৫৪)
মুস্তাহাব, বাধ্যতামূলক নয়
হানাফি মাজহাবের স্কলারদের মতে, জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও শরীরের পশম না কাটা মুস্তাহাব। অর্থাৎ এটা পালন করলে সওয়াব আছে, তবে না করলে গুনাহ হবে না। তবে নখ ও নাভির নিচের পশম ৪০ দিনের বেশি না রাখার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।
জিলহজ মাস শুরু না হলে
যদি জিলহজ মাস শুরু না হয়, তাহলে নখ ও চুল কাটাতে কোনো বাধা নেই। এ বিধান শুধু কুরবানির নিয়তকারী ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য।
ইসলামের শিক্ষা
ইসলাম আমাদের প্রতিটি কাজকে ইবাদতে পরিণত করতে শেখায়। কুরবানির পূর্বে নখ ও চুল না কাটা বাধ্যতামূলক না হলেও এটি প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি সুন্দর আমল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। সামর্থ্য থাকলে ভালোবাসা ও ভক্তি সহকারে এই মুস্তাহাব আমল পালন করা মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তবে কেউ পালন করতে না পারলে তাকে দোষারোপ করা বা গুনাহগার মনে করা ঠিক নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা—ত্যাগ, তাকওয়া ও আন্তরিকতা অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র: মুসলিম ১৯৭৭, আবু দাউদ ২৭৯১, তিরমিজি ১৫২৩, নাসাঈ ৪৩৬১, ইবনে মাজাহ ৩১৫০, মুসনাদে আহমদ ২৬৬৫৪ ও ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৮১।



