অনেকেই অভিযোগ করেন, নামাজ পড়ি, কুরআন তিলাওয়াত করি, জিকিরও করি— তবু ইবাদতে সেই তৃপ্তি বা হৃদয়ের প্রশান্তি অনুভব হয় না। বাস্তবে ইবাদতের স্বাদ কেবল বাহ্যিক আমলের ওপর নির্ভর করে না; বরং হৃদয়ের পবিত্রতা, হালাল-হারামের প্রতি সতর্কতা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এমন কিছু আমল রয়েছে, যা ইবাদতের নূর ও মিষ্টতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইবাদতে তৃপ্তি পেতে ৩টি করণীয়
১. চোখের হেফাজত করুন— দৃষ্টির গুনাহ থেকে বেঁচে থাকুন
অপ্রয়োজনীয় ও কুদৃষ্টিতে তাকানো হৃদয়কে কলুষিত করে এবং ইবাদতের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। একজন মুমিন যখন নিজের দৃষ্টিকে সংযত রাখে, তখন তার অন্তর আরও পবিত্র হয় এবং ইবাদতে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন— 'মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।' (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩০) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— 'কুদৃষ্টি ইবলিসের বিষাক্ত তিরগুলোর একটি।' (মুস্তাদরাকে হাকেম ৭৮৭৫)
২. সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন
সব গুনাহ মানুষের অন্তরে কালো দাগ ফেলে। গুনাহ যত কম হবে, হৃদয় তত বেশি নির্মল থাকবে। আর নির্মল হৃদয়ই আল্লাহর ইবাদতে প্রকৃত আনন্দ ও একাগ্রতা অনুভব করে। আল্লাহ তাআলা বলেন— 'কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরের ওপর মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।' (সুরা আল-মুতাফফিফিন: আয়াত ১৪) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— 'বান্দা যখন একটি গুনাহ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে।' (তিরমিজি ৩৩৩৪, ইবন মাজাহ ৪২৪৪)
৩. হারাম থেকে নিজেকে দূরে রাখুন এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করুন
হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য শুধু দোয়া কবুলের অন্তরায় নয়, বরং ইবাদতের নূর ও বরকতও কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে হালাল রিজিক অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং ইবাদতে এক বিশেষ প্রশান্তি এনে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।' (মুসলিম ১০১৫) একই হাদিসে তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ সফরে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, কিন্তু তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও জীবিকা হারাম হওয়ায় তার দোয়া কবুল হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে যায়।
ইবাদতের মিষ্টতা কেবল বেশি বেশি আমল করার মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং তা অর্জিত হয় একটি পরিশুদ্ধ হৃদয়, সংযত দৃষ্টি, গুনাহমুক্ত জীবন এবং হালাল জীবিকার মাধ্যমে। তাই যদি আমরা ইবাদতে প্রকৃত প্রশান্তি, খুশু এবং আল্লাহর নৈকট্য অনুভব করতে চাই, তবে বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি নিজেদের অন্তর ও চরিত্রকেও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। যে হৃদয় গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়, সেই হৃদয়ই ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারে।



