টেলিভিশন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলের মৃত্যুর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিনেত্রীর ‘কথিত’ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে তাঁর মানসিক অবস্থার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। সেখানে ভয়, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং বারবার দুঃস্বপ্ন দেখার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তবে তদন্তকারীরা এখনো ওই বার্তাগুলোর সত্যতা যাচাই করছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকেই সঞ্চিতা মানসিক ও আবেগগতভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনে তিনি জানিয়েছেন, আতঙ্ক ও উদ্বেগের কারণে তাঁর ঘুমের সমস্যা হচ্ছিল। নিয়মিত খারাপ স্বপ্নও দেখতেন তিনি।
সূত্রগুলোর দাবি, এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাপে সঞ্চিতা জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও ভীত ছিলেন। কিছু নির্দিষ্ট স্বপ্ন তাঁকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলত বলেও উল্লেখ করেছিলেন। এসব কথোপকথন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ে তিনি মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় ছিলেন না।
চ্যাটে আরও উঠে এসেছে, নিজের পেশাগত দায়িত্ব আগের মতো পালন করতে পারছেন না বলে মনে হতো সঞ্চিতার। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় মনে করছেন বলেও জানিয়েছিলেন। গত কয়েক মাসে তাঁর অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলেও উল্লেখ করেছিলেন অভিনেত্রী।
এদিকে সঞ্চিতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অভিনেত্রী ইন্দ্রাক্ষী কাঞ্জিলাল সহ-অভিনেতা উজ্জ্বল শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সঞ্চিতা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে উজ্জ্বল শর্মার আচরণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
ইন্দ্রাক্ষীর ভাষ্য, ‘সঞ্চিতা আমাকে বলেছিল, সহ-অভিনেতা উজ্জ্বল শর্মা তাকে হেনস্তা করতেন এবং সেই চাপ তার স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছিল। সে শো ছাড়তে চাইত না, কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছিল।’
ইন্দ্রাক্ষী আরও অভিযোগ করেন, উজ্জ্বল শর্মা সঞ্চিতার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তিনি সঞ্চিতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন, অপমান করেন এবং মারধরের হুমকিও দেন। ইন্দ্রাক্ষী দাবি করেন, এ-সংক্রান্ত কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটও তাঁর কাছে রয়েছে, যেখানে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
ইন্দ্রাক্ষীর আরও দাবি, সঞ্চিতা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর মনে হয়েছিল, অভিযোগ করেও কোনো পরিবর্তন আসবে না।
তবে উজ্জ্বল শর্মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সঞ্চিতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল না। উজ্জ্বল বলেন, ‘সে তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল এবং সাবেক প্রেমিককে ঘিরে কঠিন সময় পার করছিল। সে সাহায্যও নিচ্ছিল।’
এদিকে সঞ্চিতার পরিবারও অভিযোগ করেছে, কিছু ব্যক্তি তাঁকে মানসিকভাবে চাপ দিচ্ছিলেন। পরিবারের দাবি, আর্থিক লেনদেন ও কর্মক্ষেত্রের কিছু সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৪ জুন মুম্বাইয়ের নালাসোপারায় নিজ বাসভবনে সঞ্চিতা উগলের মৃত্যু হয়। ২২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁর ডিজিটাল যোগাযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান সঞ্চিতা। পরে ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ ও ‘দিলওয়ালি দুলহা লে জায়েগি’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকেও অভিনয় করেন। ছোট পর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে ভিকি কৌশল অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ছাভা’য় তারাবাই চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।



