নিকেতনে এক পার্টির গল্প: তানভীর, সুলেমান ও লিবারেল বন্ধুদের রাতভর আড্ডা
ঢাকার নিকেতন আবাসিক এলাকায় এক সন্ধ্যায় জমে উঠলো এক অসাধারণ পার্টি। অদিতি ইসলাম, যিনি একটি ফোক-রক ব্যান্ডের ম্যানেজার এবং আমেরিকায় স্বামীর কাছে চলে যাচ্ছেন, তার বিদায় উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এই মাহফিল। তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ঢাকার মিড-আর্ট ইন্ডাস্ট্রির কুতুব, আবদাল ও আশেকানদের। কিন্তু সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল তার বয়ফ্রেন্ড সানির উস্তাদ তানভীরের উপস্থিতি।
তানভীরের যাত্রা: গ্রামবাংলা থেকে নিকেতন পর্যন্ত
তানভীর, যিনি ছাপড়িদের সাথে নেশা করলে অরিজিনাল ছাপড়ির মতো লাগেন আর বড়লোকের কন্যার সাথে প্রেম করলে গানপাউডার এম্পায়ারের প্রিন্স বলে মনে হয়, তিনি পার্টিতে যেতে চাইলেও বাধা হয়ে দাঁড়ালেন তার ছোটবেলার বন্ধু সুলেমান। গ্রামবাংলা থেকে আসা সুলেমান, যিনি কওমি মাদ্রাসায় পড়েন এবং দাড়ি-টুপি পরেন, তাকে রেখে যাওয়া সম্ভব ছিল না। অদিতির জোরাজুরিতে তানভীর সুলেমানকে সাথে নিয়েই ধানমন্ডি থেকে একটি সিএনজি করে রওনা দিলেন নিকেতনের দিকে।
পার্টির মেজাজ: লিবারেল ও রক্ষণশীলদের সংঘাত
পার্টির আয়োজক রনির বাসায় পৌঁছানোর পরই শুরু হয় উত্তেজনা। রনি, যিনি সফটকোর বামপন্থী ও গায়িকা সুমু আফরোজের এক্স-জামাই হিসেবে পরিচিত, ছাপড়ি তানভীরের আগমন জানতে পেরে মেজাজ হারালেন। অন্যদিকে, সুলেমানের সালাম দেওয়া ও তার রক্ষণশীল চেহারা দেখে অনেকে আল-কায়দা ভাবতে শুরু করলেন। অদিতি তানভীরকে ইশারায় বোঝালেন যে সুলেমানের উপস্থিতি কেউ সহ্য করতে পারছে না এবং দ্রুত ডিনার শেষ করে চলে যেতে হবে।
মদের বোতল নিয়ে বিতর্ক ও পার্টির জমজমাট পরিবেশ
পার্টি জমে উঠলো যখন ষাট বছরের পুরোনো হুইস্কির বোতল নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো। আমিরুল, যিনি পাঠশালা ইনস্টিটিউটের অল্প জলে গভীর সাঁতার হিসেবে পরিচিত, দাবি করলেন বোতলটি নকল। রনি চেক করে দেখালেন এটি আসল, এবং নিজে কর্ক খুলে দুই ঢোক গিলে প্রমাণ করলেন মদ ভেজাল নয়। এরপর সবাই মদ খেতে শুরু করল, যদিও আমিরুল মারফতি গুল্ম রোল করে জয়েন্ট বানিয়ে নিজের মতো করে আনন্দ করলেন।
সুলেমানের অভিজ্ঞতা: লিবারেলদের কাণ্ডকীর্তি দেখে আমোদ
সুলেমান, যিনি জীবনে কখনো বিড়ি খাননি বা মেয়ের দিকে তাকাননি, তিনি লিবারেলদের আচরণ দেখে খুবই আমোদ পেলেন। তিনি ঢাকার এক নম্বর কাচ্চি খেয়ে পেপের ঠান্ডা জুস পান করলেন, কারণ মদ না খাওয়ায় অদিতি তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন। পার্টিতে গান চলতে থাকলো, সিগারেট আফটার সেক্সের অ্যাপোকেলিপস থেকে হাবিব ওয়াহিদের ‘বন্দে মায়া লাগাইসে’ পর্যন্ত।
রনির রাগ ও পার্টির সমাপ্তি
রনি ধীরে ধীরে মদের প্রভাবে তুরীয় দশায় পৌঁছে গেলেন এবং হঠাৎ তানভীর ও সুলেমানের দিকে তেড়ে এসে তাদের বের হয়ে যেতে বললেন। সানির হস্তক্ষেপে তানভীর ও সুলেমান বেরিয়ে গেলেন। পার্টি শেষ হতে হতে ভোর হয়ে এলো, এবং রনি লক্ষ্য করলেন তার ল্যাপটপের ওয়্যারলেস মাউস হারিয়ে গেছে। তিনি সবাইকে দাঁড় করিয়ে ব্যাগ চেক শুরু করলেন, যা অদিতির মনে করালো যে তার অতিথিদের অপমান করা হচ্ছে এবং এই সব তার কর্মফল।
সমাপ্তির ইঙ্গিত: মাউসের রহস্য ও ক্ষমা চাওয়া
গল্পের শেষে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে মাউসটি হয়তো সোফার কোনায় পাওয়া যাবে, অথবা অদিতি সকালে তানভীরের বাসায় গিয়ে ক্ষমা চাইবেন। এমনও হতে পারে যে মাউসটি তানভীরই নিয়ে এসেছিলেন এবং অদিতির চলে যাওয়ার পর তিনি জানালা দিয়ে সেটি ছুড়ে ফেলে দিলেন। এই ঘটনাগুলো ঢাকার সামাজিক জীবনের এক জটিল ও মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে।
