ফুটবল আর সংগীত—দুটি ভিন্ন জগৎ। কিন্তু বিশ্বকাপ এলে এই দুই জগৎ যেন একসুতোয় গাঁথা পড়ে। আর এবার সেই সংযোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাচ্ছে ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে সুপার বোল ধাঁচের ‘হাফটাইম শো’। আর সেই মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন পপসংগীতের তিন বিশ্বতারকা—ম্যাডোনা, শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।
ঘোষণা ও টিজার ভিডিও
গত বুধবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চমকপ্রদ ঘোষণা দেয় ফিফা। একটি বিশেষ টিজার ভিডিও প্রকাশ করা হয় রাত ৯টায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন এবং শিশুদের প্রিয় চরিত্র এলমো। শুধু তাঁরা নন, ভিডিওতে দেখা যায় মিস পিগি, কেরমিট দ্য ফ্রগসহ ‘মাপেটস’ দলের আরও পরিচিত মুখদের। মজার ছলে ভিডিওতে দেখানো হয়, ক্রিস মার্টিন ও এলমো মিলে বিশ্বকাপের প্রথম হাফটাইম শোর জন্য শিল্পীদের বেছে নিচ্ছেন। আর শেষ পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচন করেন ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএসকে। ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সংগীতপ্রেমী থেকে ফুটবল সমর্থক—সবাই এখন অপেক্ষায়, এই বিরল মঞ্চ দেখার জন্য।
সামাজিক উদ্যোগ
ফিফা জানিয়েছে, এই হাফটাইম শো শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বৈশ্বিক সামাজিক উদ্যোগও। অনুষ্ঠান থেকে আয় হওয়া অর্থ দেওয়া হবে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশনে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবল শেখার সুযোগ বাড়াতে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ ফাইনাল এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয় ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর একটি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল সরাসরি দেখেছিলেন ৫০ কোটির বেশি মানুষ। তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোলের দর্শকসংখ্যাও অনেক কম। ২০২৫ সালের সুপার বোল গড়ে দেখেছিলেন প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ দর্শক।
পূর্ব অভিজ্ঞতা
ফিফা এর আগে হাফটাইম বিনোদন নিয়ে ছোট পরিসরে পরীক্ষা চালিয়েছিল। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সংগীতশিল্পীদের পারফরম্যান্স রাখা হয়। সেই মঞ্চে গান গেয়েছিলেন ডোজা ক্যাট, টেমস ও জে বালভিন। সেই শিল্পীদের নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ক্রিস মার্টিন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতার সফলতাই ফিফাকে এবার আরও বড় আকারে বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো আয়োজনের সাহস জুগিয়েছে।
শিল্পীদের পরিচিতি
বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে ফুটবল–ভক্তদের হৃদয় জয় করেছিলেন। এখনো সেই গান বিশ্বকাপের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ম্যাডোনা পপসংগীতের ইতিহাসে কিংবদন্তি এক নাম। আর বিটিএস বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগীতদলগুলোর একটি। ফলে এই তিন শক্তির এক মঞ্চে আসা যে বিশাল বৈশ্বিক উন্মাদনা তৈরি করবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
১৯৯৪ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে বসছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১১ জুন থেকে।



