দক্ষিণী ও বলিউড অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু অবশেষে মা হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ সিনেমার সাফল্য উদযাপনের অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে তার স্ফীতোদরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল।
নতুন অধ্যায় শুরু
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ে সারেন সামান্থা। এর আগে অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিকভাবেও ছিলেন অসুস্থ। এখন তিনি জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন, যার ফলে আবার বিরতি নিতে হবে তাকে।
মায়োসাইটিসের ভয়
২০২২ সালে নিজের সিনেমা ‘যশোদা’র প্রচারের সময়ে সামান্থা প্রথম জানিয়েছিলেন যে, তিনি মায়োসাইটিসে আক্রান্ত। এটি পেশিপ্রদাহ নামে পরিচিত, যার ফলে পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করেন তিনি। নড়তে-চড়তে তার বেশ কষ্ট হতো। তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর এই ভয় সার্বক্ষণিক তাড়া করছে তাকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা বলেন, ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমি প্রার্থনা করি—আজ যেন কোনো যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। এবং সারাদিন ভালোভাবে কাটানোর মতো শক্তি ও সামর্থ্য যেন আমার থাকে। তিনি বলেন, আসলে মনে মনে ভয় পাই— হয়তো দিনটা পার করার মতো যথেষ্ট জোর থাকবে না। তাই যখন আমাকে প্রথম ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ সিনেমার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আমি বেশ ভয় পেয়েছিলাম। আমি জানতাম না যে, আমি এটা করতে পারব কিনা বা আমার শরীর সায় দেবে কিনা। যখন আপনার সামনে কিছু বিধিনিষেধ ও সীমাবদ্ধতা থাকে, তখন আপনি চাইবেন প্রতিটা দিনকে কাজে লাগাতে।’
মা হওয়ার ইচ্ছা
সামান্থা সব সময়ে মা হতে চেয়েছেন। সাবেক স্বামী নাগা চৈতন্যের সঙ্গেও সন্তানের ইচ্ছা ছিল তার। সে কথা প্রকাশ্যে বলেছেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, মা হওয়ার পর তার পুরো পৃথিবী হবে সেই সন্তান। তিনি চান তার সন্তান যেন কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়। নিজের শৈশব সুখের না থাকায়, তিনি যা পাননি, সেসব যেন সন্তান পায়।
সন্তানের জন্য সময়
সামান্থা নিজেই সম্প্রতি জানিয়েছেন, সন্তান হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর তিনি সন্তানকেই সময় দেবেন। এর আগে বছর চারেক আগে মায়োসাইটিস ধরা পড়লে দুই বছরের বেশি সময় কাজ করেননি তিনি। সেই সময়ে নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। তারপর বেশ উত্থান-পতন ও শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সামান্থাকে। এসব সামলেই নাগার সঙ্গে বিচ্ছেদের বছর চারেকের মধ্যে আবার বিয়ে করেন তিনি।



