চিত্রনায়িকা শাবানার জন্মদিনে স্মৃতিচারণ করেছেন নির্মাতা মালেক আফসারি। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্মৃতিচারণে তিনি শেয়ার করেছেন তাদের একসঙ্গে কাজের নানা অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত মুহূর্ত।
প্রথম চলচ্চিত্রের স্মৃতি
চলচ্চিত্র ‘ঘরের বউ’ ছিল নির্মাতা মালেক আফসারির প্রথম চলচ্চিত্র, যেখানে নায়িকা হিসেবে ছিলেন তৎকালীন সুপারস্টার শাবানা। জন্মদিনে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শাবানা চাইলে ছবিটি না-ও করতে পারতেন, কিন্তু তার প্রতি আস্থা রেখেই তিনি রাজি হন। মালেক আফসারি বলেন, “আমি তখন সহকারী পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে দশ-বারোটি ছবিতে কাজ করেছি। তিনি জানতেন আমি ভালো করবো। তাই রাজি হলেন।”
পারিশ্রমিকের মজার ঘটনা
ছবির চুক্তি অনুযায়ী শাবানার পারিশ্রমিক ছিল ৪০ হাজার টাকা, যা তখনকার হিসেবে তার স্বাভাবিক সম্মানীর চেয়ে কম ছিল। সেই সময়ের একটি মজার ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওনাকে চমকে দেওয়ার জন্য আমি প্রযোজকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ১০ টাকার ও ৫ টাকার নোটে ভাঙালাম। এতগুলো টাকা হয়ে গেল যে বড় ব্যাগ লাগছিল বহন করতে।” তিনি বলেন, “যখন ওনার কাছে নিয়ে গেলাম, উনি কপাল কুঁচকে বললেন—‘এটা কী!’ আমি বললাম, টাকা। ব্যাগ খুলে দেখে তিনি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লেন। তার স্বামীকে ডেকে দেখালেন—দেখো কী নিয়ে এসেছে!” পরিচালকের ভাষ্য, এই ঘটনার পর শাবানার সঙ্গে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণে তাকে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
অসুস্থতা সত্ত্বেও পেশাদারিত্ব
এরপর ‘দুর্জয়’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময়ের আরেকটি ঘটনা স্মরণ করেন মালেক আফসারি। তিনি জানান, শাবানা তখন অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সেটে এসে কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তার কপালে হাত দিয়ে দেখি জ্বর। আমরা প্যাকআপ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি সেট দেখে মুগ্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করতে দেননি।” মালেক আফসারির ভাষায়, শাবানা ছিলেন অত্যন্ত পেশাদার একজন শিল্পী। তিনি বলেন, “আমি অনেক স্টারের সঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু তার মতো পেশাদার কাউকে দেখিনি। অনুমতি ছাড়া তিনি কখনো ওয়াশরুম বা মেকআপ রুমেও যেতেন না।” তিনি আরও জানান, শাবানা ছিলেন খাদ্যরসিক এবং শুটিং সেটেও খাবার সঙ্গে রাখতেন।
শুভেচ্ছা ও শূন্যতা
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মালেক আফসারি বলেন, চলচ্চিত্র থেকে শাবানার অবসরের পর ইন্ডাস্ট্রিতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা এখনো পূরণ হয়নি।



