বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরাসরি ফিফা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ দেখেছেন। সেটি ছিল আর্জেন্টিনার ম্যাচ, যেখানে লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করেন। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
প্রথম ম্যাচ দেখার অনুভূতি
নাদিয়া আহমেদ বলেন, আগে কখনো সরাসরি ফিফার কোনো ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়নি। এবারই প্রথম। খেলা দেখতে গিয়ে এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে বিশ্বাসই হচ্ছিল না আর্জেন্টিনার খেলা দেখছেন। এটি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল।
স্টেডিয়ামের পরিবেশ
তিনি জানান, খেলা শুরু হওয়ার বহু আগেই স্টেডিয়ামে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেখানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সবাই নাচ-গানে মেতে ছিলেন। তিনি ভাবছিলেন, গতবার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল, এবার কী হবে। তবে মেসিকে দেখতে পেরে ভালো লাগছিল।
ইতিহাসের অংশ হওয়া
নাদিয়া বলেন, এখন তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন। আর্জেন্টিনার এত অর্জনের একটি ম্যাচের সাক্ষী হওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার।
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
তিনি আরও বলেন, স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখার মতো ছিল। তারা খেলা শুরুর আগে থেকেই দেশাত্মবোধক গান গাইছিলেন এবং মেসির নামে সম্মান জানাচ্ছিলেন। মেসি যখন মাঠে আসেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম কাউন্টডাউন শুরু করে এবং মেসি আসার পর চিৎকারে গলা বসে যায়।
বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিক্রিয়া
আর্জেন্টাইনরা জানতে পেরে যে তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে, 'তোমরা আমাদের বন্ধু।' মাঠের পাশের অনেকে বলেছিলেন, 'তোমাদের সঙ্গে খেলা দেখে ভালো লাগল।'
মেসির এন্ট্রি মুহূর্ত
মেসি যখন মাঠে পা রাখেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়। মেসি আসার পর সবাই চিৎকার করে ওঠে। নাদিয়া বলেন, এই মুহূর্তটি তিনি কখনো ভুলবেন না।
পরিকল্পনা ও টিকিট পাওয়া
গত বিশ্বকাপ কাতারে হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নেন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মিস করবেন না। গত বছর ফিফার লটারিতে হতাশ হলেও পরে সেকেন্ডারি মাধ্যম থেকে টিকিট কাটেন। এপ্রিলে টিকিট হাতে পেয়ে নিশ্চিত হন যে খেলা দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাদিয়া জানান, টিকিট পাওয়া কঠিন হলেও যদি পরের রাউন্ডের টিকিট পান, তাহলে কিনে ফেলবেন। মেসির কোনো টুর্নামেন্ট মিস করতে চান না। আর যদি কোনো ম্যাচ না-ও দেখা হয়, তবুও আফসোস নেই, কারণ তিনি মেসির হ্যাটট্রিক ম্যাচ দেখে ফেলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান
তিনি ঈদের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। সেখানে আত্মীয়স্বজন আছেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটছে। তার স্বামী এফএস নাঈমও সেখানে আছেন। আপাতত কিছুদিন সেখানেই থাকবেন।



