বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা এনামুল বারি ফারুকের ইন্তেকাল
রাজধানীর আদাবরে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক মির্জা এনামুল বারি ফারুক। বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই আকস্মিক বিদায়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও পেশাগত জীবন
মির্জা এনামুল বারি ফারুক চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন, যাদের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান হলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। তার সহধর্মিণী খুরশিদা আক্তার। পেশাগত জীবনে তিনি পরিবার পরিকল্পনা পরিদপ্তরের একজন নিষ্ঠাবান পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
শোক প্রকাশ ও সন্তানদের প্রত্যাবর্তন
তার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করে নাট্যকার মাসুম রেজা জানান, আজ সকালেই তিনি নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এদিকে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রিয় সহকর্মী বন্যা মির্জার বাবার মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।
বন্যা মির্জা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার একমাত্র ভাইও বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং তিনিও বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দেশের পথে রওয়ানা হয়েছেন। মির্জা এনামুল বারি ফারুকের শেষ বিদায়ে তার সন্তানদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পরিবার।
দাফনের সময়সূচি
সন্তানদের বিদেশ থেকে ফেরার ওপর ভিত্তি করেই তার জানাজা ও দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। দুই ভাই-বোন দেশে পৌঁছানোর পরেই যথাযথ মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হবে। এই প্রক্রিয়া পরিবারের সদস্যদের সম্মতি ও উপস্থিতিতে সম্পন্ন হবে, যা মৃতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



