পরান ব্যানার্জির ছোটপর্দায় প্রত্যাবর্তন: শর্তসাপেক্ষে নতুন ধারাবাহিকে অভিনয়
ওপার বাংলার খ্যাতিমান অভিনেতা পরান ব্যানার্জি বহু বছর পর আবারও ছোটপর্দায় ফিরছেন। 'বয়েই গেলো', 'সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে', 'প্রলয় আসছে' এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করা এই শিল্পী মাঝে দীর্ঘদিন টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছিলেন না। তবে এবার তিনি নতুন কৌতুকধর্মী ধারাবাহিক 'সংসার সংকীর্তন'-এর মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে হাজির হচ্ছেন, কিন্তু একেবারেই নিজস্ব কিছু শর্তের ভিত্তিতে।
ভালোবাসার টানে কাজে রাজি
নতুন এই ধারাবাহিকে কাজ করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পরান ব্যানার্জি বলেন, 'এই প্রযোজনা সংস্থার দু'টি ছবি 'কীর্তন' ও 'কীর্তনের পর কীর্তন'-এ আমি কাজ করেছি। ছবি দুটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। তখনই এই গল্প নিয়ে ধারাবাহিক করার পরিকল্পনা করা হয়। তারা আমাকে কাজের অনুরোধ করলে না করতে পারিনি। মূলত ভালোবাসার টানেই রাজি হয়েছি।' তার কথায়, পূর্ববর্তী সফল সহযোগিতার স্মৃতি তাকে এই প্রকল্পে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা
তবে বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণ বিবেচনায় পরান ব্যানার্জি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'আমার বয়স হয়েছে, দৃষ্টিশক্তিও আগের চেয়ে ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আর ১৪ ঘণ্টা কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারব না।' এই সীমাবদ্ধতা তার দৈনন্দিন জীবনযাপনকেও প্রভাবিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সময়সীমার কঠোর শর্ত
পরান ব্যানার্জি আরও বলেন, 'বাসা থেকে বের হয়ে সব মিলিয়ে আমি বড়জোর ছয় ঘণ্টা বাইরে থাকতে পারি। এর মধ্যেই আমার শুটিংয়ের অংশটুকু শেষ করতে হবে। প্রযোজনা সংস্থাও আমার এই পরিস্থিতি মেনে নিয়েছে।' এই শর্তের মাধ্যমে তিনি তার শারীরিক সক্ষমতা ও কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে চান। প্রযোজনা সংস্থা তার এই অবস্থানকে সম্মান দেখিয়ে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পরান ব্যানার্জির এই ফেরাটি শুধু একটি নতুন ধারাবাহিকের সূচনা নয়, বরং এটি প্রবীণ শিল্পীদের পেশাগত চাহিদা ও সীমাবদ্ধতার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি দৃষ্টান্ত। 'সংসার সংকীর্তন' ধারাবাহিকটি তার অভিনয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে, কিন্তু তা হবে তার শারীরিক সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই পদক্ষেপটি শিল্পজগতে বয়স ও স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



