ডিম-মাছ খেতে পারছি না, মনে হচ্ছে প্রাণী হত্যা করছি: জয়া আহসানের খাদ্যাভ্যাসের গভীর পরিবর্তন
ডিম-মাছ খেতে পারছি না, মনে হচ্ছে প্রাণী হত্যা করছি: জয়া আহসান

ডিম-মাছ খেতে পারছি না, মনে হচ্ছে প্রাণী হত্যা করছি: জয়া আহসানের খাদ্যাভ্যাসের গভীর পরিবর্তন

কলকাতা ও ঢাকায় সমান জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান ফিটনেস ও রূপ ধরে রাখার জন্য সবসময় আলোচনায় থাকেন। তার খাবারের অভ্যাস দেখে সহকর্মীরা প্রায়ই অবাক হন। যখন অনেকে ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট মেনে চলেন, তখন জয়া আহসান থালা ভর্তি খাবার উপভোগ করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার খাদ্যাভ্যাসের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা একটি গভীর মানসিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্যাস্কিটেরিয়ান হওয়ার চেষ্টা ও মানসিক দ্বন্দ্ব

জয়া আহসান গত তিন বছর ধরে নিজেকে একজন প্যাস্কিটেরিয়ান হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, 'আমি খেতে খুব ভালোবাসি এবং আমি নিয়মিত খাই। আমার মনে হয় মাঝে মাঝে নিজের আত্মাকে তৃপ্ত করার জন্য খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেকেই ডায়েট চার্ট মেনে বিদেশি খাবার খান, কিন্তু আমি সেভাবে চলি না।' তবে তার এই খাদ্যাভ্যাসের পেছনে রয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য মানসিক পরিবর্তন।

জয়া আহসান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি মাছ বা ডিম খেতেও গভীর দ্বিধাবোধ করছেন। তার ভাষায়, 'ইদানিং তো ডিমও খেতে পারছি না, মাছও খেতে পারছি না। আমার মনে হয় আমি প্রাণী হত্যা করছি। এটি আমার একটি মানসিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।' এই অনুভূতি তার মধ্যে প্রাণীদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করার পর থেকেই তীব্রভাবে বিকশিত হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাণী অধিকার কাজের প্রভাব ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস

জয়া আহসান ব্যাখ্যা করেন, 'আমি যখন অ্যানিমেল রাইটস নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম, তখন থেকেই এই বোধটা প্রকট হয়ে উঠেছে। এখন মুরগির মাংস খেলে আমার মনে হয় আমি রাস্তার চারপাশে ঘুরে বেড়ানো বাচ্চা কুকুর-বিড়ালদের খাবার খেয়ে ফেলছি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সবারই প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত, বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তার দৈনন্দিন জীবনে কিছু প্রিয় খাবার এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। জয়া আহসান বলেন, 'শুটিং সেটে শিঙাড়া, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ না দিলে আমার মাথা গরম হয়ে যায়। এটা আমাদের শুটিংয়ের জাতীয় খাবার হিসেবে বিবেচিত।' এছাড়া প্রতিদিন সকালে মায়ের হাতের তৈরি এক কাপ দুধ চা না হলে তার দিনটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ছোটবেলা থেকেই সবজি ও কাঁচা খাবারের প্রতি দুর্বলতা

জয়া আহসানের সবজি ও কাঁচা খাবারের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা ছোটবেলা থেকেই লক্ষণীয়। অনেকেই মজা করে বলেন যে তিনি প্রায় সবকিছু কাঁচা খান। এ প্রসঙ্গে জয়ার স্পষ্ট ব্যাখ্যা, 'সবকিছু আমি কাঁচা খাই না, তবে আমি অনেক ধরনের খাবার কাঁচা অবস্থায় খেতে পারি এবং উপভোগ করি।' তার এই স্বভাব তার স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জয়া আহসানের খাদ্যাভ্যাসের এই গভীর পরিবর্তন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং একটি নৈতিক ও মানসিক বিবর্তনের প্রতিফলন। তার কথায় ও কাজে প্রাণী অধিকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রকাশ পাচ্ছে, যা তার ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।