মুনমুন সেনের স্মৃতিচারণায় আশা ভোসলে: একটি যুগের সমাপ্তি
মুনমুন সেনের স্মৃতিতে আশা ভোসলে: যুগের সমাপ্তি

মুনমুন সেনের স্মৃতিচারণায় আশা ভোসলে: একটি যুগের সমাপ্তি

ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের মৃত্যুতে গোটা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ এই গুণী শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। প্রিয়াংকা চোপড়া, উদিত নারায়ণ, এআর রহমান, অলকা ইয়াগনিক, কাজল, শাহরুখ খান ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন। এবার টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মুনমুন সেন ভোসলের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতি ও গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা

মুনমুন সেন বলেন, তার স্বামী ভরত দেব বর্মন ত্রিপুরার রাজবাড়ির ছেলে ছিলেন, যার কাকা ছিলেন বিখ্যাত সুরকার শচীন দেব বর্মন। শচীন দেব বর্মনের ছেলে রাহুল দেব বর্মন বা পঞ্চম ভরত দেব বর্মনের তুতো ভাই ছিলেন। মুনমুন সেন উল্লেখ করেন, যখনই তারা মুম্বাইয়ে যেতেন, তখন আশা ভোসলে নিজের হাতে টিফিন ক্যারিয়ারে ভরত দেব বর্মনের জন্য রান্না করা মাছ ভরে দিতেন। একবার আশা ভোসলে একাই কলকাতায় তাদের বাড়িতে এসে ঘুরে দেখতে থাকেন।

মুনমুন সেন বলেন, “আমাদের বাড়িতে শচীন দেব বর্মনের ছবি সুন্দর করে সাজানো ছিল। সেসব দেখতে দেখতে উনি বলে উঠলেন—পঞ্চম কেন শচীন দেব বর্মনের ছবি তোমাদের তো করে সাজিয়ে রাখেনি! তোমরা কত সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছ।” তিনি আরও যোগ করেন, সেই দিন থেকে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর ও আন্তরিক হয়ে ওঠে এবং তিনি আশা ভোসলেকে ‘বউদি’ বলে ডাকা শুরু করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাদামাটা জীবন ও শৈলী

মুনমুন সেন তার বউদি সম্পর্কে বলেন, “আমার বউদি খুব সাদামাটা ও জ্ঞানী ছিলেন। তার জ্ঞানের দৃঢ়তা কখনো-সখনো তার কথায় ও আচরণে প্রকাশ পেত।” তিনি উল্লেখ করেন যে আশা ভোসলে সাদা শাড়ি পরতে খুব পছন্দ করতেন এবং সব অনুষ্ঠানে সুন্দর করে শাড়ি পরতেন, যা নিয়ে সেই সময়ে ফ্যাশন আলোচনাও কম হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে মুনমুন সেনের মতে, এসব ছাপিয়ে আশা ভোসলের মুখ ও গানের কথাই বেশি মনে পড়ছে। তিনি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, “এই যে এত গান গেয়েছেন, সেসব সুর যেন আঁচলে বেঁধে চলে গেলেন। সেই সুর সেই সময়কে আর তো খুঁজে পাব না। আর ফিরে পাব না আমরা কোনো দিন।”

শেষ দেখা ও শোকের মুহূর্ত

মুনমুন সেন বলেন, তাদের প্রায়ই দেখা হতো মুম্বাইয়ে বা বিমানে যাতায়াতের সময়। একবার আশা ভোসলে তাকে দুবাইয়ে তার ভারতীয় রেস্তোরাঁয় আসার নিমন্ত্রণ দিয়েছিলেন, যা তিনি আজ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেননি। পরে দীর্ঘ সময় তাদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকে। রাহুল দেব বর্মনের মৃত্যুর দিন কাকতালীয়ভাবে তিনি মুম্বাইয়ে ছিলেন এবং খবর পেয়ে আশা ভোসলের সঙ্গে দেখা করতে যান।

তিনি বলেন, “শোকস্তব্ধ বউদি যেন পাথরপ্রতিমা ছিলেন। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলেন না। সবাই আসছিলেন, দেখা করে যাচ্ছিলেন, উনি নীরবে সব দেখে যাচ্ছিলেন। যেন বাহ্যজ্ঞানরহিত! সেই শেষ দেখা আশা বউদির সঙ্গে।” আজ সকালে খবর শোনার পর তার মনে হয়েছে যে একটি যুগ নিয়ে চলে গেছেন আশা ভোসলে।

গানের উত্তরাধিকার

মুনমুন সেন উল্লেখ করেন যে আশা ভোসলের গাওয়া গান তার মা সুচিত্রা সেনের ছবিতে হিট হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তার নিজের ছবিতেও ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “আরও বড় ব্যাপার—সেসব গানের অনেকগুলোই রাহুল দেব বর্মন বা পঞ্চমের সুর করা। যদিও কোনো দিন সামনে বসে ওর গান শোনার সৌভাগ্য আমার হয়নি।” এই স্মৃতিচারণা শিল্পীটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়।