নিকি গ্লেজারের সম্পর্কের দর্শন: প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে একপক্ষীয় স্বাধীনতা
হলিউডের স্ট্যান্ড-আপ কমেডি জগতে খোলামেলা ভাষা ও নির্ভীক মন্তব্যের জন্য সুপরিচিত অভিনেত্রী ও সঞ্চালক নিকি গ্লেজার। ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক কিংবা যৌনতা—কোনো বিষয়েই রাখঢাক না করে কথা বলার স্বভাব তাঁর। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আবারও সেই স্বভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে, যেখানে তিনি নিজের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা প্রচলিত ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে।
সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা: গ্লেজারের ব্যতিক্রমী অবস্থান
জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘কল হার ড্যাডি’তে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে গ্লেজার তাঁর দীর্ঘদিনের অন-অফ সম্পর্কের কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক একেবারেই প্রচলিত ছাঁচে বাঁধা নয়। বরং তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর সঙ্গী অন্য নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ালে তিনি তা মেনে নিতে পারেন, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটি তাঁকে আকৃষ্টও করে।
গ্লেজারের ভাষায়, ‘আমি এমন একজন মানুষকে চাই, যাঁকে অন্য নারীরাও চান।’ তাঁর মতে, একজন সঙ্গী যদি অন্যদের কাছেও আকর্ষণীয় হন, তা সম্পর্কের মধ্যে একধরনের উত্তেজনা বা আকর্ষণ তৈরি করে। এই বক্তব্য নিছক চমক সৃষ্টি করার জন্য নয়; বরং সম্পর্ক সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব দর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি মনে করেন, ভালোবাসা ও আকর্ষণ সব সময় একই নিয়মে চলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড়
গ্লেজারের এই মন্তব্য স্বভাবতই ভাইরাল হয়েছে, অন্তর্জালে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। অনেকেই বলছেন, নিকির মত ব্যক্তিগত হলেও এটা পুরোপুরি অনৈতিক। এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার আগে অভিনেত্রীর আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল। তবে অন্য একটি দল দাবি করছে, সম্পর্কের সংজ্ঞা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে এবং পারস্পরিক সম্মতিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একপক্ষীয় স্বাধীনতা: সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন
গ্লেজারের এই অবস্থান পুরোপুরি ‘ওপেন রিলেশনশিপ’-এর মতো নয়। কারণ, তিনি নিজে অন্য কারও সঙ্গে জড়াতে আগ্রহী নন। অর্থাৎ তাঁর সম্পর্কের কাঠামোটি কিছুটা একপক্ষীয়, যেখানে তাঁর সঙ্গী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্বাধীনতা পেতে পারেন, কিন্তু তিনি নিজে সেই পথে হাঁটেন না। এই জায়গাটিই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বেশি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এ ধরনের সম্পর্ক কি সত্যিই ভারসাম্যপূর্ণ?
শর্ত ও সীমারেখা: গ্লেজারের কঠোর নিয়ম
গ্লেজার স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই ‘স্বাধীনতা’র ধারণার মধ্যেও কিছু কঠোর নিয়ম রয়েছে। যেমন:
- তাঁর সঙ্গীকে অন্য নারীদের কাছে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।
- শারীরিক সম্পর্কের বাইরে কোনো আবেগপ্রবণ সংযোগ তৈরি করা যাবে না।
- ‘ডেটিং’-এর মতো ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো, যেমন একসঙ্গে সিরিজ দেখা বা ব্যক্তিগত আলাপ—এসব তিনি মেনে নেন না।
গ্লেজারের মতে, শারীরিক সম্পর্ক ও আবেগপ্রবণ ঘনিষ্ঠতা এক জিনিস নয়। আবেগের জায়গাটি তিনি নিজের জন্য সংরক্ষিত রাখতে চান।
মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি: গ্লেজারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
গ্লেজার জানিয়েছেন, তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির শুরু সম্পর্কের শুরুর দিকেই। প্রেমিকের অতীত সম্পর্কের গল্প শোনা, কীভাবে তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন—এসব জানতে তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কৌতূহল একধরনের মানসিক উত্তেজনায় রূপ নেয়। এই খোলামেলা স্বীকারোক্তির পেছনে রয়েছে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যা তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত।
পেশাগত সাফল্য: হলিউডে গ্লেজারের দৃঢ় অবস্থান
ব্যক্তিগত জীবনে যতই বিতর্ক থাকুক, পেশাগত জীবনে নিকি গ্লেজার এখন সফলতার শীর্ষে। স্ট্যান্ড-আপ কমেডি থেকে শুরু করে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা—সব জায়গায় তিনি নিজের জায়গা শক্ত করেছেন। পরপর একাধিকবার গোল্ডেন গ্লোবস সঞ্চালনার দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। একই সঙ্গে গ্লেজার নতুন সিনেমা ও টেলিভিশন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত, যা তাঁকে হলিউডের মূলধারায় আরও প্রতিষ্ঠিত করছে।
এই আলোচনা শুধু গ্লেজারের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং সম্পর্কের ধারণা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাঁর মতামত সম্পর্ক, স্বাধীনতা ও সম্মতির জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।



