অভিষেক বচ্চনের মেয়ের যুক্তির কাছে হার মানার মজার ঘটনা
সম্প্রতি লিলি সিং-এর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চন তার এবং ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সন্তান লালন-পালনের ধরন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, মেয়ে আরাধ্যর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরাবাঁধা নিয়মে বিশ্বাসী নন। একইসঙ্গে মেয়ের অকাট্য যুক্তির কাছে নিজের হার মানার একটি মজার ঘটনাও শেয়ার করেন এই অভিনেতা।
লালন-পালনের দর্শন
অভিষেক বচ্চন স্পষ্ট করেন যে, সন্তানকে মুখে কোনো কিছু শেখানোর চেয়ে নিজেরা তা করে দেখানোকেই বেশি গুরুত্ব দেন তারা। তার মতে, বাবারা অনেক সময় ভালো শিক্ষক হতে পারেন না কারণ তারা আবেগের বশবর্তী হয়ে পড়েন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাদের পরিবারে কাজগুলো নারী বা পুরুষের নির্দিষ্ট কোনো ছকে বাঁধা নয়।
এ প্রসঙ্গে অভিষেকের ভাষ্য, ‘এমন নয় যে আমি তাকে আত্মরক্ষা শেখাব আর ঐশ্বরিয়া তাকে সহানুভূতিশীল হতে শেখাবে। ঐশ্বরিয়া নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে পারে।’ তারা বিশ্বাস করেন, বাবা-মা হিসেবে তারা যদি সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন করেন, তবে আরাধ্য তাদের দেখেই সেই মূল্যবোধগুলো শিখবে।
মেয়ের যুক্তির কাছে বাবার হার
সাক্ষাৎকারে অভিষেক আরাধ্যর ছোটবেলার একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। আরাধ্যর ছোটবেলায় টেলিভিশন দেখার সময় অভিষেক তাকে এক গ্লাস পানি এনে দিতে বলেছিলেন। আরাধ্য প্রথমে কিছুটা দ্বিধা করলেও শেষ পর্যন্ত বাবাকে পানি এনে দেয় এবং অভিষেক তাকে ধন্যবাদ জানান।
এর কিছুক্ষণ পর আরাধ্য একইভাবে তার বাবার কাছে এক গ্লাস পানি চায়। তখন অভিষেক তাকে নিজের পানি নিজেকেই নিয়ে নিতে বলেন। তৎক্ষণাৎ আরাধ্য পাল্টা প্রশ্ন করে- বাবা চাইলে যদি সে পানি এনে দিতে পারে, তবে সে চাইলে বাবা কেন এনে দিতে পারবেন না? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর অভিষেকের কাছে ছিল না। মেয়ের যুক্তির ন্যায্যতা বুঝতে পেরে তিনি সেদিন থেকে ঠিক করেন যে আরাধ্যর সঙ্গে তিনি আর কখনো তর্কে জড়াবেন না।
পরিবারের পটভূমি
উল্লেখ্য, বলিউডের প্রভাবশালী দম্পতি অভিষেক-ঐশ্বরিয়া ২০০৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ২০১১ সালে তাদের একমাত্র মেয়ে আরাধ্যর জন্ম হয়। অভিষেক মনে করেন, বর্তমান প্রজন্ম তাদের চেয়ে অনেক আলাদা এক পৃথিবীতে বড় হচ্ছে। তাই নিজেদের সময়কার ধ্যান-ধারণা মেয়ের ওপর চাপিয়ে দিতে চান না তারা।
এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই তাদের মেয়ের লালন-পালনে উদার ও যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করেন, যা অনেক অভিভাবকের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে।



