নোবেলের জামিন মঞ্জুর, আদালতে হাজিরা শেষে মুচলেকায় মুক্তি
নোবেলের জামিন মঞ্জুর, আদালতে হাজিরা শেষে মুক্তি

সংগীতশিল্পী নোবেলের জামিন মঞ্জুর, আদালতে হাজিরা শেষে মুক্তি

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে এক তরুণীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হওয়ার পর রোববার শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় এই জামিনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনজীবীর বক্তব্য

ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। নোবেলের আইনজীবী মো. ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নোবেলকে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য অভিযোগও মিথ্যা। আদালত শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মামলার পটভূমি ও পূর্ববর্তী ঘটনা

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আপসের শর্তে নোবেলের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে আপসের শর্ত ভঙ্গ করায় গত বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর সঙ্গে নোবেল প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেন, যা পরে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া

মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে এবং গত ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অন্য আসামিরা হলেন নোবেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান (প্রিয়া), তাঁর মা নাজমা হোসেন এবং সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

নোবেলের পূর্ববর্তী মামলা

এর আগে নোবেল ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে ডেমরা থানার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পর ২৪ জুন তিনি জামিন পান। এই ঘটনাগুলো নোবেলের আইনি ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মামলার বিস্তারিত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এবং আদালতের সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনও প্রত্যাশিত।